Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

২৭ রমজানই কি লাইলাতুল কদর?

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

২৭ রমজানই কি লাইলাতুল কদর?

বিজ্ঞাপন

অনেকের মনেই একটি প্রশ্নটি দেখা যায়— লাইলাতুল কদর কি শুধু ২৭ রমজানেই হয়। আমাদের দেশে সাধারণত ২৭ রমজানকে শবে কদর হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই ধারণাটি পুরোপুরি অগ্রাহ্য করার মতো নয়। তবে কেবল এই রাতকেই লাইলাতুল কদর ধরে নিয়ে রমজানের শেষ দশকের অন্য রাতগুলো অবহেলায় কাটানোও ঠিক নয়।

কারণ সাহাবায়ে কেরামের বিভিন্ন বর্ণনায় ২৭ রমজানের রাতের উল্লেখ থাকলেও, অন্য রাতগুলোতেও শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তাই এই রাতের পাশাপাশি শেষ দশকের অন্য রাতগুলোতেও বিশেষভাবে ইবাদতের প্রতি মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

হজরত যির ইবনে হুবাইশ (রাহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— আমি উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে বললাম, আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করবে, সে কদরের রাত লাভ করবে।’

হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন—

رَحِمَ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَاللَّهِ إِنَّهُ لَيَعْلَمُ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ، وَأَنَّهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ، وَأَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ، وَلَكِنْ أَرَادَ أَنْ لَا يَتَّكِلَ النَّاسُ

‘আল্লাহ আবু আবদুর রহমান (ইবনে মাসউদ)-কে রহম করুন। আল্লাহর কসম, তিনি অবশ্যই জানেন যে লাইলাতুল কদর রমজানের মধ্যেই এবং তা শেষ দশকের মধ্যে। এমনকি তা সাতাশে রমজানের রাত। কিন্তু তিনি এ কথা বলেছেন যাতে মানুষ শুধু এই রাতের ওপর নির্ভর করে না বসে।’

তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের যে নিদর্শনের কথা জানিয়েছেন, তা হলো—

وَأَمَارَتُهَا أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فِي صَبِيحَتِهَا لَا شُعَاعَ لَهَا

‘সেই রাতের একটি নিদর্শন হলো— পরদিন সূর্য উদিত হয় কিন্তু তাতে তীব্র কিরণ থাকে না।’ (তিরমিজি ৩৩৫১)

তাই সাতাশে রমজানকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শেষ দশকের অন্যান্য রাতেও ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ মহানবী (সা.) নিজেও শেষ দশকের এই রাতগুলোতে অধিক ইবাদত করতেন এবং উম্মতকে এসব রাতে ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

‘রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান করো।’ (বুখারি ২০১৭)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন—

الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، فِي تَاسِعَةٍ تَبْقَى، فِي سَابِعَةٍ تَبْقَى، فِي خَامِسَةٍ تَبْقَى

‘তোমরা লাইলাতুল কদরকে রমজানের শেষ দশকে অনুসন্ধান করো— যখন নয়, সাত অথবা পাঁচ রাত বাকি থাকে।’ (বুখারি ২০২১)

কিছু বর্ণনায় আবার রমজানের শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত—

أُرِيَ رِجَالٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْمَنَامِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ

‘নবী (সা.)-এর কিছু সাহাবিকে স্বপ্নে রমজানের শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো শেষ সাত রাতের ব্যাপারে একত্রিত হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর খুঁজতে চায়, সে যেন শেষ সাত রাতে তা অনুসন্ধান করে।’ (বুখারি ২০১৫)

আরেক বর্ণনায় এসেছে—

‘কিছু লোককে স্বপ্নে শবে কদর শেষ সাত রাতের মধ্যে দেখানো হয়েছে এবং অন্যদের শেষ দশ রাতের মধ্যে দেখানো হয়েছে। তখন রাসুল (সা.) বলেন— তোমরা শবে কদর শেষ সাত রাতের মধ্যেই অনুসন্ধান করো।’ (বুখারি ৬৯৯১)

আবার কিছু বর্ণনায় ২৩ রমজানের রাতেও লাইলাতুল কদর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উনায়স (রা.) থেকে বর্ণিত—

أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا، وَأُرِيتُ أَنِّي أَسْجُدُ فِي صَبِيحَتِهَا فِي مَاءٍ وَطِينٍ

‘আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আমাকে সেই রাতের ভোরে পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখানো হয়েছে।’

বর্ণনাকারী বলেন, ২৩তম রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। ফজরের নামাজ শেষে আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কপাল ও নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলাম। (মুসলিম ২৬৬৫)

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনায় ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায়। তবে সব মতই রমজানের শেষ দশকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই যে কেউ যদি লাইলাতুল কদর পেতে চায়, তবে শেষ দশকের প্রতিটি রাতই গুরুত্ব দিয়ে ইবাদতে কাটানো উচিত। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার