বিজ্ঞাপন
ঋণ পরিশোধ না করে হজে যাচ্ছেন কি? দেখুন ইসলাম কী বলছে
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:৩৭ এএম
বিজ্ঞাপন
হজ ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এটি ফরজ। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, কারও ওপর ঋণ থাকলে বা ঋণ পরিশোধ না করেই হজে গেলে সেই হজ আদায় হবে কি না?
ইসলামি শরিয়তের আলোকে আলেমদের ব্যাখ্যা বলছে, ঋণ পরিশোধ না করে হজে গেলেও হজ আদায় হয়ে যাবে, যদি হজের সব ফরজ, ওয়াজিব ও শর্ত যথাযথভাবে পালন করা হয়। অর্থাৎ ঋণ থাকা বা ঋণ পরিশোধ বাকি থাকা হজের শুদ্ধতাকে সরাসরি বাতিল করে না।
তবে ইসলামি বিধানে বিষয়টি শুধু হজ আদায় হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আলেমরা বলছেন, যদি কারও ওপর এমন ঋণ থাকে, যা পরিশোধ করলে তার আর হজে যাওয়ার সামর্থ্য থাকবে না, তাহলে তার ওপর হজ ফরজ হবে না। কারণ হজ ফরজ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো আর্থিক সামর্থ্য। কোরআনে বলা হয়েছে, সামর্থ্যবান মানুষের ওপরই হজ ফরজ।
হাদিসেও ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব অত্যন্ত কঠোরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করা জুলুমের শামিল। আবার শহীদ ব্যক্তির সব গুনাহ মাফ হলেও ঋণ মাফ হয় না বলেও হাদিসে উল্লেখ আছে। ( সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২৮৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৬৪ )
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ নেয় তা ফেরত দেওয়ার নিয়তে, আল্লাহ তাকে তা আদায়ে সাহায্য করেন।” — সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩৮৭
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম দিকে ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়াতেন না, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা হতো। — সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২৯৫
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুমিনের আত্মা তার ঋণের সঙ্গে ঝুলন্ত থাকে, যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়।” — সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৮
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঋণ মানুষের ওপর অন্যের হক। তাই নফল হজের চেয়ে ঋণ পরিশোধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এমনকি ফরজ হজের ক্ষেত্রেও যদি ঋণদাতার পাওনা ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে আগে ঋণ পরিশোধ করাই উত্তম।
তবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। যদি ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করা হয় এবং নির্ধারিত সময়মতো তা শোধ করার সক্ষমতা থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি হজে যেতে পারেন। এতে হজ ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয় না।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, হজ শুধু একটি ইবাদত নয়, এটি দায়িত্ববোধেরও শিক্ষা দেয়। তাই হজে যাওয়ার আগে ঋণ, আমানত ও মানুষের হক পরিশোধ করে নিজেকে দায়মুক্ত করা ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম ও নিরাপদ পথ।