Logo
Logo
×

ইসলাম

কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে যে ২ সুরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৮ এএম

কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে যে ২ সুরা

কিয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে কেউ কারও হবে না। প্রত্যেকেই ‘ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি’ করতে থাকবে। এমনকি বিভীষিকাময় সেই দিনে বাবা-মা, সন্তান-সন্ততিরও হুঁশ থাকবে না কারও।

পবিত্র কুরআনে কিয়ামত দিবসের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও তার সন্তান-সন্ততি থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। সেদিন কিছু কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে। সহাস্য, প্রফুল্ল। আর কিছু কিছু চেহারার ওপর সেদিন থাকবে মলিনতা। (সুরা আবাসা, আয়াত: ৩৪-৪০)

বিভীষিকাময় সেই দিনে বান্দার আমলেই নির্ধারণ হবে তার চিরস্থায়ী ঠিকানা জান্নাত নাকি জাহান্নাম। আর হাশর-নশরে সাক্ষ্য দেবে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যেদিন তাদের জিহ্বাগুলো, তাদের হাতগুলো ও তাদের পাগুলো তারা যা করত, সে ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের ন্যায্য প্রতিদান পুরোপুরি দিয়ে দেবেন, আর তারা জানবে যে, আল্লাহই সুস্পষ্ট সত্য। (সুরা নূর, আয়াত: ২৪-২৫)

এজন্য পরকালে সফল হতে পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী জীবনে মহান আল্লাহর হুকুম যেমন মেনে চলা জরুরি, তেমনি রাসুল (সা.) এর আদর্শ ও তাঁর দেখানো পথ অনুসরণও জরুরি। তাহলেই পরকালে মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত। তাইতো কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য উপকারে আসবে এমন আমলের কথাও বাতলে দিয়েছেন নবীজি (সা.)।

এরমধ্যে বিশেষ একটি আমল হলো সুরা বাকারা ও সুরা আল-ইমরান তিলাওয়াত করা। কিয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে এই দুই সুরা তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। আবু উমামা বাহিলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করবে। কেননা, কিয়ামতের দিন তা তিলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশকারীরূপে উপস্থিত হবে। সুপারিশকারী দু’টি সমুজ্জ্বল সুরা বাকারা ও আল-ইমরান তিলাওয়াত করবে। কেননা, এ দু’টি কিয়ামতের দিনে এমনভাবে উপস্থিত হবে যেন দু’টি ‘গায়ায়া’ (মেঘখণ্ড) কিংবা দু’টি ডানা বিস্তারকারী পাখির ঝাঁক, যারা তাদের তিলাওয়াতকারীদের পক্ষে সাহায্যকারী হবে। তোমরা সুরা বাকারা তিলাওয়াত করবে। কেননা, তা তিলাওয়াত করাতে বরকত রয়েছে এবং তা বর্জন করা আফসোসের। কারণ, বাতিলপন্থিরা তার সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৭৪৭)

খোদ নবীজিও (সা.) এই দুই সুরা পাঠ করতেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার রাসুল (সা.) তার স্ত্রী মায়মুনা (রা.) এর ঘরে রাত কাটান। তিনি ছিলেন ইবনু আব্বাস (রা.) এর খালা। ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, এরপর আমি বিছানার চওড়া দিকে শয়ন করলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর স্ত্রী বিছানার লম্বা দিকে শয়ন করলেন। এরপর নবীজি (সা.) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনভাবে রাত যখন অর্ধেক হয়ে গেল বা তার কিছু আগে বা পরে তিনি (নবীজি সা.) জেগে উঠলেন। তারপর তিনি বসে হাত দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। এরপর সুরা আল-ইমরানের শেষ ১০ আয়াত পাঠ করলেন।

হাদিসটিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, পরে নবীজি (সা.) দাঁড়িয়ে একটি ঝুলন্ত মশক থেকে সুন্দরভাবে অজু করলেন। তারপর নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, পরে আমিও উঠে তিনি যেরূপ করেছিলেন তদ্রুপ করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর বাঁ পাশে দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার ওপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে একটু নাড়া দিলেন (এবং তাঁর), ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন। তারপর তিনি দু’রাকাত সালাত নামাজ আদায় করলেন। এরপর দু’রাকাত করে ১০ রাকাত নামাজ পড়লেন এবং তারপর বিতর আদায় করলেন। এরপর তিনি শুয়ে পড়লেন। তার কিছুক্ষণ পরই তাঁর কাছে মুয়াজ্জিন এলেন। পরে তিনি দাঁড়িয়ে হালকাভাবে দু’রাকাত নামাজ আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৩)

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার