Logo
Logo
×

ইসলাম

নামাজে কেন পড়বেন সুরা ফাতিহা?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১৩ এএম

নামাজে কেন পড়বেন সুরা ফাতিহা?

আল্লাহ তাআলা মানুষের আত্মাকে আলো দেখানোর জন্য পাঠিয়েছেন এক সূচনা, এক দরজা, এক চাবি—সুরা ফাতিহা। এটি শুধু একটি সুরা নয়; এটি বান্দা ও রবের সরাসরি যোগাযোগের সেতুবন্ধন। নামাজে এটি পড়ার মাধ্যমে একজন মুসল্লি আল্লাহর দরজায় উপস্থিত হয় তার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ‘হেদায়াত’ চায়। প্রতিটি রাকাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করে আল্লাহর কাছে বলে— ‘হে আল্লাহ! আমি পথ হারাতে চাই না, তুমি আমার পথপ্রদর্শক হও।’ এ কারণেই সুরা ফাতিহা নামাজের প্রাণ, দোয়ার মূল এবং আল্লাহর সঙ্গে হৃদয়ের গোপন কথোপকথন।

হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে সুস্পষ্ট যে, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, ‘সেই ব্যক্তির নামাজ হয় না; যে ব্যক্তি তাতে সুরা ফাতিহা পড়ে না।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি)

নামাজে সুরা ফাতিহা পড়ার গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে সুরা ফাতিহা পড়াকে আবশ্যক বলেছেন। আল্লাহ তাআলা সুরা ফাতিহাকে তার মাঝে আর বান্দার মাঝে আধাআধি করে ভাগ করে নিয়েছেন। নামাজে সুরা ফাতিহা পড়ার সময় মহান আল্লাহ প্রত্যেক আয়াতে জবাব দিয়ে থাকেন। হাদিসে এসেছে-

১. ‘আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি নামাজ (সুরা ফাতিহা) কে আমার ও আমার বান্দার মাঝে আধাআধি ভাগ করে নিয়েছি। (সুরাটির) অর্ধেক আমার জন্য এবং অর্ধেক আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা তাই পায়, যা সে প্রার্থনা করে।’

সুতরাং বান্দা যখন বলে-

الْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’

তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল।’

এরপর বান্দা যখন বলে-

اَلرَّحْمنِ الرَّحِيْم

‘আররাহমানির রাহিম।’

তখন আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার গুণগান বর্ণনা করল।’

এরপর বান্দা যখন বলে-

مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْن

‘মালিকি ইয়্যাওমিদদ্বীন।’

তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বান্দা আমার গৌরব বর্ণনা করল।’

বান্দা যখন বলে-

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِيْن

‘ইয়্যাকা নাঅবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাইন।’

তখন আল্লাহ বলেন, ‘এটা আমার ও আমার বান্দার মাঝে। আর আমার বান্দা তাই পায়, যা সে প্রার্থনা করে।’

এরপর বান্দা যখন বলে-

اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْم، صِرَاطَ الَّذِيْنَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّيْن

‘ইহদিনাস সিরাত্বাল মুস্তাকিম। সিরাত্বাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম; গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালদ্দ্বাল্লিন।’

তখন আল্লাহ বলেন, ‘এসব কিছু আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা চায়, তাই পাবে।’ (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ, মিশকাত)

২. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তির নামাজ যথেষ্ট নয়, যে তাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করে না।; (ইবনে হিব্বান, দারাকুতনি)

৩.  নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো নামাজ পড়ে, যাতে সে সুরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার ওই নামাজ (গর্ভচ্যুত ভ্রুণের ন্যায়) অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, মিশকাত)

৪. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে ভুলকারী সাহাবিকে তার নামাজে এই সুরা (ফাতিহা) পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’ (বুখারি)

সুতরাং নামাজে সুরা ফাতিহা পড়া আবশ্যক। এটি নামাজের অন্যতম রোকন। তাইতো নবী সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

‘এটি ‘উম্মুল কুরআন’। আল্লাহ তাআলা সুরা ফাতিহার মতো কোনো মর্যাদার সুরা তাওরাত ও ইঞ্জিলে নাজিল করেননি। এই (সুরাটিই) হল (নামাজে প্রত্যেক রাকআতে) পঠিত ৭টি আয়াত বিশিষ্ট সুরা এবং কুরআন, যা আমাকে দান করা হয়েছে।’ (নাসাঈ, মুসতাদরাকে হাকেম, তিরমিজি, মিশকাত)

সুরা ফাতিহা নামাজের প্রতিটি রাকাতে আবশ্যিক করা হয়েছে; কারণ আল্লাহ চান— তার বান্দা কখনো দিকনির্দেশনা, দয়া ও ক্ষমা থেকে বিচ্ছিন্ন না হোক। প্রতিবার সুরা ফাতিহা পড়া মানে হৃদয়কে পুনরায় পরিশুদ্ধ করা, মনকে সোজা পথে ফেরানো এবং আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের নতুন প্রতিজ্ঞা। সুতরাং, নামাজ শুধু শরীরের নয়— সুরা ফাতিহা নামাজকে বানায় হৃদয়ের ইবাদত, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার