Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সাহিত্য

ভুলোমনা সাগর

Icon

এম এল গনি

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪২ এএম

ভুলোমনা সাগর

বিজ্ঞাপন

১. 

মেধাবী, বন্ধুবৎসল আর প্রচন্ড রকমের আত্মবিশ্বাসী এক যুবক, সাগর। একজন ভালো ছাত্র, ভালো বন্ধু, ভালো ছেলে - সব পরিচয়েই তিনি এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। কিন্তু সমস্যা একটাই, তিনি জন্মগতভাবেই ভুলোমনা। এমন না যে একটু-আধটু ভুল - সাগর যেন ভুলে ভরা এক সুপার-পাওয়ার। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সহপাঠিরা বলতো, 'সাগর যে ভুল করে না, সে ভুলটাই ভুল!' তবে তার ভুলের সবচেয়ে বড়ো ও মনে দাগ কাটার মতো ভুলোমনের ঘটনাটি ঘটেছিল ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষার সময়।

সকালবেলা পড়তে বসে সাগর এতই মনোযোগী হয়ে পড়লেন যে জগত সংসার একপ্রকার ভুলেই গেলেন। বাস্তবতা হলো, পড়াশোনা বা কাজে  ডুবে গেলে সাগরকে ডাকলেও তিনি শোনেন না, তিনি যেন ক্ষণকালের জন্য বধির বা বোবা হয়ে যান। কেউকেউ মন্তব্য বলতো, সাগর নাকি পড়ার বইয়ের ভেতর নতুন এক মহাবিশ্ব খুঁজে পেয়েছে, সেখানেই তার বসবাস।

সেদিন সকালেও তেমনই অবস্থা। টেবিলে বই, কপালে চিন্তার ভাঁজ, মুখে পরীক্ষার চাপ - সব মিলিয়ে এক বিচিত্র পরিবেশ। হঠাৎ তার মনে পড়ে, গোসল করা হয়নি তার। সাধারণ সময়ে দিনে একবার গোসল করলেও পরীক্ষার চাপ এলে সাগর সকাল-সন্ধ্যা দুবার গোসল করেন। এতে তার পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে সুবিধা হয়।  

পরীক্ষা এলে গোসল করার সময়েও সাগর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন। পানিতে শরীর ভিজতে ভিজতে প্রশ্নোত্তর মুখস্থ আওড়াতে থাকেন। সাবান মাখতে মাখতে পরীক্ষার সাবজেক্টের বিভিন্ন অধ্যায় মনে মনে রিভিউ করেন। তার মানে, গোসলের সময়ও পড়াশোনা থেমে থাকেনা। এভাবেই গোসল শেষ করে শরীর মুছে তিনি তোয়ালেতে মাথা মুছতে মুছতে বাথরুম থেকে বেরিয়ে পড়েন।

তবে সমস্যা হলো - তিনি বের হলেন নিম্নাঙ্গে কাপড়চোপড় না পরেই, মানে, মাথা মুছতে মুছতে পুরোপুরি ন্যাংটা অবস্থায় হোস্টেলের করিডোর দিয়ে হেঁটে নিজের রুমে প্রবেশ করেন।

ওদিকে, রুমমেটের বড়বোন এসেছেন তাকে মাসের খরচের টাকা দিতে। তারা সাগরকে এভাবে রুমে ঢুকেছেন দেখে যেন আকাশ থেকে পড়লেন! 

 - দোস্ত! তোর প্যান্ট কই? - রুমমেট জানতে চান। 

নিজের দিকে তাকিয়ে 'সরি দোস্ত, সরি' বলতে বলতে সাগর দৌড়ান বাথরুমের দিকে। পথে জুনিয়র ব্যাচের শৈবালের সাথেও দেখা হয়ে যায়, তবে সেদিকে তিনি ভ্রূক্ষেপ করেননা। শৈবালের ছোটভাই শান্ত আবার সাগরের ভাইয়ের ক্লাসমেট; তাই, সাগরের বুঝতে কষ্ট হয়না এ তুচ্ছ ঘটনাটি বহুদূর গড়াবে। 

সাগরের ভুলোমনের এমন ঘটনা এক বা দুটি নয়, অগুনতি।  ক্লাসে এসাইনমেন্ট আনতে ভুলে যাওয়া, পরীক্ষায় নিজের রোল নাম্বারের পরিবর্তে আরেকজনের রোল নাম্বার লেখা, বন্ধুদের ভুল নামে ডাকা, এমন আরো অনেক ঘটনা। 

ভুলোমন হলেও সাগর কিন্তু ছাত্র হিসেবে অসাধারন। ও দুই ঘন্টা পড়াশোনা করে যা রপ্ত করে তার অনেক সহপাঠী চার-পাঁচ ঘন্টায়ও তা পারেনা। ভুলোমনের অথচ মেধাবী হওয়ায় বন্ধুরা প্রায়শঃই তাকে বলতো, “সাগর, তুই ভবিষ্যতে বড় কিছু হবি, হয়তোবা নামিদামি কোনোবিজ্ঞানী। জানিস তো, বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কেমন ভুলোমনা ছিলেন!" সাগর বন্ধুদের কথাগুলো কমপ্লিমেন্টস হিসেবেই নেয়।  

২.

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে চাকুরী পেতে সাগরের বেগ পেতে হলোনা। দেশের সেরা এক বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকুরী পেলেন তিনি। বেতন সরকারি চাকুরীর দ্বিগুনেরও বেশি। তার বাবা তাকে বলেছিলেন, ভাল বেতনে প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরী পেলে সরকারি চাকুরীতে না যেতে, কারন, দীর্ঘ ছত্রিশ বছর সরকারি চাকুরী করে তিনি দেখেছেন বাংলাদেশের পরিবেশে সৎভাবে চাকুরী করা মানে স্রোতের বিপথে চলা, যা সহজ নয়। বাবার পরামর্শ মাথায় রেখে সাগর আর সরকারি চাকুরীতে আবেদনও করেননি। 

বেশ সফলতার সাথে চাকুরী চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাগর, যদিও তার ভুলোমনি স্বভাবটা রয়েই গেছে।

একবার অফিসের মিটিংয়ে সাগর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশনের সিডি বাসায় ফেলে এসে তার পরিবর্তে নিয়ে এসেছিলেন ল্যাপটপের চার্জার। 

সেদিন তার বসকে প্রেজেন্টেশনের সিডি না দিয়ে চার্জার হাতে তুলে দিলেই ঘটে বিপত্তি। তারপর তড়িঘড়ি বাসায় গিয়ে সেই সিডি নিয়ে আসেন। যাক, হাতে সময় ছিল বলে বাঁচা গেল; অফিসের উচ্চ পর্যায়ের সভা ছিল সেদিন।

অন্য আরেকদিন অফিসের ক্যান্টিনে নিজের খাবার মনে করে অন্যের অর্ডার করা খাবার খেয়ে ফেলেছিলেন। এমন অনেক ঘটনার মাঝেও তার কাজের দক্ষতাই অফিসে বেশি গুরুত্ব পায়, সবার নজর কাড়ে। কোন কাজ শুরু করলে তা শেষ না হওয়া অব্দি তাকে ঠেলেও অফিস থেকে বের করা যায়না, এমনই কাজ পাগল মানুষ তিনি। তিনি কেবল খাটেনই না, কাজের আউটপুটও চমৎকার। ফলে, কেবল চার বছরের চাকুরীতে তাকে ইউনিট ম্যানেজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হলো। অথচ, সরকারি চাকুরীতে সে পর্যায়ের পদে যেতে অন্তত বছর দশেক চাকুরী করতে হতো। 

বছর পাঁচেক ওই অফিসে কাজ করার পর প্রায় দশগুণ বেতনের এক চাকুরী পেয়ে তিনি স্থায়ীভাবে আমেরিকা চলে যান। 

৩.

কোন সুঅভ্যাস রপ্ত করা যেমন কঠিন, তেমনি, খারাপ অভ্যাস বদলে ফেলাও সহজ নয়। আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে এসেও সাগরের ভুলে যাওয়ার স্বভাবটা রয়ে গেছে। 

এ শহরের বাঙালি পাড়ায় একদিন এক পুরোনো পরিচিতের সাথে তার দেখা। লোকটি তার পুরোনো বন্ধু ও সহপাঠী আজিজ। সাগর তার নাম তাৎক্ষণিক মনে করতে না পারলেও আজিজের ঠিকই সাগরের নাম মনে আছে। বছর বিশেক পর দেখা তাদের। নাম ভুলে যাওয়া অস্বাভাবিকও নয়। 

নাম ভুলে গেলেও ছাত্রজীবনের অনেক ঘটনা, স্মৃতি, ঠিকই সাগরের মনে আছে। তবে, অনেক কাঠখড় পুড়িয়েও নামটা মনে আসেনা তার। তাই, নামোল্লেখ এড়িয়ে সে আজিজের সাথে কথা বলতে থাকে। আজিজ বিষয়টা আঁচ করতে পেরে নিজে থেকেই তার নামটা সাগরকে মনে করিয়ে দেন।

বহুদিন পর পুনর্মিলন। দুবন্ধু মিলে কফি খাওয়া, আড্ডা, চলছেই। 

আজিজ কেবল বছর তিনেক আগে আমেরিকা এসেছেন তার স্ত্রীর হাত ধরে। পেশাগত যোগ্যতায় নয়, তার স্ত্রী আমেরিকার ডিবি লটারিতে জিতেছিলেন, সেভাবেই পরিবারটির আমেরিকা আসা। 

আজিজ বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে দেশে সরকারি চাকুরী করতেন। উপসচিব ছিলেন যখন দেশ ছাড়েন। দুসন্তান আর পরিবারের ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই আমেরিকায় চলে যাওয়া। কিন্তু, আমেরিকায় পা রেখে উপসচিব পর্যায়ের চাকুরী যোগাড় করতে পারলেন না। পারার কথাও নয়। কারন, আমেরিকাসহ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের মতো প্রশাসন ক্যাডার বলে কিছু নেই। পেশাজীবিরা যে যার অফিস বা মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্বে দেন, বিশেষ কোন ক্যাডার থেকে 'সচিব' নামের কোন অফিসারকে পাঠানো হয়না। 

বয়স হয়ে আমেরিকায় এসেছেন আজিজ। কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করার যোগ্যতা বা আগ্রহ তার নেই। তাই, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ট্রেনিং নিয়ে একটি শপিং মল-এ সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেন তিনি। 

ওদিকে, তারই বন্ধু সাগর আমেরিকার একটা প্রতিষ্ঠানের আইটি ম্যানেজার। আমেরিকায় এসে উনি এক বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের ডিগ্রি শেষ করে আইটি-তে কাজ শুরু করেছিলেন অনেক বছর আগে। কাজে দক্ষতা দেখাতে পারায় কয়েকধাপ পদোন্নতি পেয়ে তিনি এখন এ পদে। 

যাই হউক, আইটি ম্যানেজার বা সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী দুই বন্ধুর পুনর্মিলনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি মোটেও। দুজনের গলাগলি, বন্ধুতা নিমেষেই জেগে উঠে আগের চেয়েও বেশি শক্তসোমত্ত হয়ে। 

আড্ডার ফাঁকে আজিজ সাগরকে জিজ্ঞেস করে, 'বন্ধু, তুই কি এখনও আগের মতো ভুলোমনা আছিস? মনে আছে, পরীক্ষার সময় তুই কি ঘটনা ঘটিয়েছিলি?'

সাগর বলে, 'না রে দোস্ত, আমি এখন অনেক স্মার্ট, আগের মতো ওভাবে ভুলে যাই না।'

আজিজ মনে মনে বলে, “হুম!… এবার একটু পরীক্ষা করে দেখি।”

একটু ভেবে আজিজ প্রশ্ন করে, 'জিল্লুরকে তোর মনে আছে?'

 - হ্যা, সেই শ্যামলামতো শান্তশিষ্ট ছেলেটা তো?

 - হুম, সে কিন্তু নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনেই থাকে? 

 - সত্যি? তাহলে আমার বাসা থেকে তো কেবল আধা ঘন্টার ড্রাইভ। তার ফোন নম্বর আছে তোর কাছে? থাকলে দেয়, কথা বলি। 

এই সুযোগটাই আজিজ খুঁজছিল। এবারই পরীক্ষা হয়ে যাবে সাগর আসলে কতটা ভুলোমনা আজও। 

আজিজ নিজের মোবাইল ফোনের কন্টাক্ট লিস্ট থেকে একটা নম্বর নিয়ে কাগজে লিখে তা সাগরকে দেন। 

তাৎক্ষণিক ওই নম্বরে ফোন দেন সাগর। ফোনে তাদের কথা শুরু হতেই আজিজ 'জরুরি কাজ আছে' বলে কেটে পড়েন। 

৪.

সাগরের দিক থেকে 'হ্যালো' বলার পর অপর প্রান্ত হতে উত্তর এলো, 'কি ব্যাপার, তুমি হঠাৎ ফোন দিলে কেন?'

-  জিল্লুরকে একটু দেয়া যাবে?

- কি বলো, কোন জিল্লুর?

- আপনি কে বলছেন জানতে পারি?

- ঢং করো, তাই না? আপনি কে বলছেন বলুন তো?

- আমি সাগর, জিল্লুরের ফ্রেন্ড।

- ওহ তাই? তাহলে আমি কে তাতো আপনার জানার কথা।

- কিভাবে জানবো, কিছুই বুঝতে পারছি না কিন্তু, একটু খুলে বলবেন?

- কিভাবে মানে? মেয়েদের সাথে এতো নাটক করে কথা বলা শিখলেন কবে? আমি যে আপনার স্ত্রী তাও কি ভুলে গেলেন? মেয়েদের সাথে কি এভাবে প্রায়ই কথা বলা হয়?

উত্তর শুনে ক্ষনিকের জন্য সাগরের মাথায় ঝিম ধরে। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় এক যুগ আগের সময়ে ফিরে যান তিনি। ভাবেন, জিল্লুরের ফোনে তার স্ত্রীকে পাওয়া গেল কিভাবে? নিজেকে নিজেই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। বিশাল এক রহস্য যেন উন্মোচিত হচ্ছে তার চোখে।

সাগর প্রেম-ট্রেমে বিশ্বাস করেননা। বলা চলে, ওসবে জড়ানোর সময়ও তার ছিলোনা। তার বিয়েটা হয়েছিল পারিবারিকভাবেই। তার খালাদের একজন, পারুল খালা, তার বিবাহের ঘটকালি করেছিলেন। তখন একটা গুঞ্জন উঠেছিল, এই মেয়ে, মানে সাগরের বর্তমান স্ত্রী তিথির সাথে, কার যেন প্রেম ছিল। সেই ছেলে আমেরিকা চলে যাবার পর মেয়েটির সাথে আর যোগাযোগ রাখেনি। তখন অনেক খোঁজ করেও তেমন কারো অস্তিত্ব স্বজনেরা খুঁজে পায়নি। তাদের বন্ধু জিল্লুরই সেই গুঞ্জনের ছেলেটি কিনা সে প্রশ্ন তার মাথায় জোরালোভাবে ঘুরপাক খেতে থাকে। তেমন দুশ্চিন্তা থেকেই স্ত্রীর সাথে একপ্রকার তর্কে জড়িয়ে পড়েন সাগর।

- বুঝলাম তুমি তিথী, কিন্তু, জিল্লুরের ওখানে তুমি কি কর? আমি কাজে বেরুলেই কি তুমি ...

- কী সব আবোলতাবোল কথা বলছো তুমি? তোমার মাথা কি ঠিক আছে?

- দেখো তিথি, আমি কিন্তু বিয়ের আগে থেকেই তোমার অনেক গোপন ব্যাপারে জানি; কিন্তু, সংসারের খাতিরে, আর বাচ্চাদের মুখের দিকে চেয়ে, সেসব নিয়ে তোমাকে ঘাটাইনি। ভেবেছিলাম, তুমি ওসব ভুলে গেছো। কিন্তু, হাতেনাতে যেহেতু ধরা পড়েছো, তাই, কিছু কথা আজ বলতেই হয়; স্বামী হিসেবে বিষয়টা খোলাসা করাও আমার ধর্মীয় এবং নৈতিক দায়িত্ব।

- বাহ্! তুমি তো রীতিমতো কথা সাহিত্যিকদের ঢংয়ে কথা বলছো দেখি। লেখক এম এল গনির গাঁজাখোরি গল্প আজকাল বেশি পড়া হচ্ছে বুঝি। .. ঠিক আছে, কী বলার আছে বলো, তোমার কথাগুলো আমি শুনতে চাই। 

- তোমার সাথে বিয়ের আগে কি জিল্লুরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল? বুকে হাত দিয়ে বলতে হবে কিন্তু। 

- তুমি না দুই বাচ্চার বাবা? আজ এদ্দিন পর পাগলামো শুরু করেছো কেন? তোমাকে এসব বাজেকথা বলেছে কে?  

- তুমি না বলতে চাইলে আমার কিছু করার নাই। মায়ের বোন খালা যে মানুষের এতবড়ো ক্ষতি করতে পারে তা ভাবতেও লজ্জা হয়। পারুল খালা আমাকে এভাবে পথে না  বসালেও পারতেন। আমি কি জীবনে তার কোন ক্ষতি করেছি? .. যাক, এবার বলো, আমাকে আগে থেকে না বলে তুমি জিল্লুরের সাথে গোপনে দেখা করতে গেলে কেন?

- কে বলেছে আমি জিল্লুরের সাথে দেখা করতে গেছি? আমি তো আমার কাজের জায়গায়।

- এক্ষুনি ভিডিও কল দিতে পারবে তাহলে?

তাৎক্ষণিক ভিডিও কলে সাগর দেখতে পেলেন তার স্ত্রী আসলে সত্যিই তার কাজের জায়গা, মানে, সানবীম ডে কেয়ার সেন্টারে। তিথি সেখানে প্রায় অর্ধযুগ ধরে কেয়ার গিভার হিসেবে কাজ করছেন। 

সাথে সাথে ফোন নম্বরটা আরেকবার চেক করতেই সাগর বুঝতে পারেন নম্বরটা আসলে জিল্লুরের নয়, তার স্ত্রীর। বন্ধু আজিজ ভুলে বা দুস্টুমি করে এ নাম্বারটাই তাকে লিখে দিয়েছিলেন। কল করার আগে তার (সাগর) দেখা উচিত ছিল নম্বরটি আসলে কার? এ অবস্থায় লজ্জা পেয়ে সাগর তার স্ত্রীকে বারবার সরি বলতে লাগলেন।   

বলা বাহুল্য, কিছুদিন আগে এক পরিচিত ভাবি সাগরের স্ত্রী তিথির ফোন নম্বর আজিজের স্ত্রীকে দিয়েছিলেন। তাঁদের দেখা হয়েছিল তিথিদের ডে কেয়ারে। সেভাবেই সাগরের স্ত্রীর নম্বর আজিজের সংগ্রহে। 

৫.

বিষয়টা জানতে পরদিন সকালে সাগর তার বন্ধু আজিজকে ফোন দিলেন। 

- শোন, তুই যে ফোন নম্বর দিলি সেটা তো আমার বউয়ের নম্বর!

আজিজ বলেন, - ও? তাই নাকি? তাহলে ভুল হয়ে গেছে দোস্ত। মাফ করে দিস।

- তুই কি আসলেই ভুল করেছিস, নাকি আমাকে টেস্ট করতে ইচ্ছা করেই আকামটা করলি?

- (হেসে) দোস্ত, তোকে আসলে টেস্ট করছিলাম, তুই আগের মতো ভুলোমনা আছিস কিনা। তুই তো বলেছিলি তোর আর সে সমস্যা নেই।

- এতো কঠিনভাবে টেস্ট না করলেও পারতি। তোর ভাবি তো খুব মাইন্ড করেছে।

- তাই নাকি? কেন কি হয়েছে?

- কি হয়েছে মানে? আমি ওকে অযথা সন্দেহ করে অনেক বাজে কথা বলেছি। এখন আমার কি হবে বল?

- চিন্তা করিসনা দোস্ত, সামনের উইকেন্ডে তোর ভাবীকে নিয়ে তোর বাসায় আসবো। সব কিছু খুলে বলে প্রয়োজনে ভাবীর কাছে মাফ চাইবো। 

- দেখিস, ভুলে যাসনে কিন্তু। খুব বাজে অবস্থায় পড়ে গেছি রে, তুই এসে আমাকে বাঁচা।

লেখক: এম এল গনি - কানাডীয় অভিবাসন পরামর্শক, প্রকৌশলী ও কথাসাহিত্যিক 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার