Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

বেবিচকে দেশ ছাড়ার হিড়িক, এবার ছুটি নিয়ে লাপাত্তা এফএসআর পরিচালক

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫১ এএম

বেবিচকে দেশ ছাড়ার হিড়িক, এবার ছুটি নিয়ে লাপাত্তা এফএসআর পরিচালক

বিজ্ঞাপন

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস (এফএসআর) বিভাগের পরিচালক আবু সাঈদ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ১০ দিনের ছুটি নিয়ে বিদেশে গেলেও পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি আর দেশে ফেরেননি। অবশেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে বেবিচক। তিনি আদৌ আর দেশে ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

শুধু আবু সাঈদই নন—বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আরও একাধিক কর্মকর্তা বিদেশে গিয়ে আর ফেরেননি। বেবিচক সূত্র বলছে, এভাবে অন্তত সাতজন কর্মকর্তা দেশের বাইরে গিয়ে ফেরত না আসায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদের দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও কর্মকর্তা বিদেশে গিয়ে আর ফিরে না এলে আমরা তাকে পলাতক হিসেবেই গণ্য করি। চাকরি বিধি অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে আমাদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে—বিভাগীয় মামলা করা হয়। আবু সাঈদের বিরুদ্ধেও সেটাই করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যদি তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যবস্থা নেয়, সেটা তাদের এখতিয়ার। তবে তারা যদি কখনও দেশে ফেরেন, অবশ্যই মামলা মোকাবিলা করতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘কোনও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তিনি যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে জন্য আমাদের নজরদারি থাকে।’

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমতি চেয়ে গত জুলাই মাসে মোহাম্মদ আবু সাঈদ লিয়ন আবেদন করেন। ওই আবেদন ২৭ জুলাই বিমান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে ২ সেপ্টেম্বর একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত কিছু তথ্য চাওয়া হয়। আবু সাঈদ ৪ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করেন। কিন্তু নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার পর কোনো ধরনের পূর্ব যোগাযোগ বা অনুমতি ছাড়াই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন।

বিভাগীয় সূত্র জানায়, ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে আবু সাঈদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোন ও ই-মেইলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে তার অনুপস্থিতি বেবিচকের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২১ অনুযায়ী ‘পলায়ন’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২০ নভেম্বর বেবিচকের প্রশাসন বিভাগ থেকে তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়। চিঠিতে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো ব্যাখ্যা জমা দেননি। এছাড়া তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো চিঠিও পরে কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত আসে।

বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুমোদিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ১৪ আগস্ট থেকে টানা ৬০ দিনেরও বেশি সময় তিনি কোনও অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকাকে কর্তৃপক্ষ গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে। এ বিষয়ে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক স্বাক্ষরিত আদেশ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগে অনুলিপি আকারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নানা অনিয়মের অভিযোগে এর আগেও বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল খালেক প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কানাডায় পালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুজ্জামান দেড়শ কোটি টাকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত পাঁচজন কর্মকর্তা বিদেশে গিয়ে আর ফেরেননি। তাদেরও চাকরিচ্যুত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার