Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

যুবককে পিটিয়ে হত্যা, সমাজের বিবেক নিয়ে সালমান মোক্তাদিরের প্রশ্ন

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৩ পিএম

যুবককে পিটিয়ে হত্যা, সমাজের বিবেক নিয়ে সালমান মোক্তাদিরের প্রশ্ন

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৫) নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে আলোচনা ও ক্ষোভ। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এবার কথা বললেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা সালমান আল মোক্তাদির। তাঁর এক স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনাতীত নৃশংসতা এবং সমাজের বিবেক নিয়ে তীব্র প্রশ্ন।

স্ট্যাটাসে সালমান আল মোক্তাদির জানান, তিনি ভিডিওটি একবারও শেষ পর্যন্ত দেখতে পারেননি। কাউকে ঘটনাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়েও শব্দ খুঁজে পাননি। তাঁর ভাষায়, ‘‘এমন কিছু দেখলে মানুষ বোঝাতে পারে না আসলে কী দেখেছে। তিনি বলেন, একটি মানুষ মরার পরও যেভাবে নির্দয়ভাবে মারা হয়েছে, সেটিকে সমাজ খুব সহজে একটি ‘ঘটনা’ হিসেবে মেনে নিচ্ছে, যেন সবকিছু ঘটে গেছে, শেষ হয়ে গেছে।’’

স্ট্যাটাসে তিনি আরও তুলনা টেনে লেখেন, আগের দিন একটি মেয়ে গালি দেওয়ায় অনেকেই বলেছে তার মুখ খারাপ। অথচ যেদিন একজন মানুষকে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হলো, হাদিকে গুলি করে, আসামি পালাতে দেওয়া হলো না, সংবাদমাধ্যমের অফিস ও ছায়ানটের মতো জায়গায় আগুন লাগানো হলো, সেদিন সেই গালিটাই যেন বড় অপরাধ হয়ে উঠেছে। তিনি এটিকে ভয়ংকর দ্বিচারিতা বলে ইঙ্গিত করেন।

তিনি লেখেন, ‘কখনো লজ্জা লাগে, কখনো চরম হতাশা কাজ করে। কখনো মনে হয় সব ছেড়ে কোথাও নির্জনে চলে যেতে। আবার মনে হয় মানুষ কতটা অসহায়, কতটা দিশেহারা। সবকিছু বোঝা সত্ত্বেও কিছুই যেন মাথায় ঢোকে না, এই দ্বন্দ্বই তাঁকে গ্রাস করছে।’

এই অনুভূতিকে তিনি কখনও লজ্জাবোধ, কখনও হতাশা, কখনও অসহায়ত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। লেখেন, ‘সবকিছু বুঝতে পারলেও মস্তিষ্ক যেন কিছুই প্রক্রিয়া করতে পারছে না।’ প্রশ্ন রাখেন, ‘আমরা কি এমনই ছিলাম, নাকি পৃথিবীটাই এমন হয়ে গেছে?’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে তাকে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করা হয় এবং মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে বের করে দেওয়ার পরই এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার