Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

তারেক রহমান আরও আগে আসলে ভালো হতো: প্রথম আলো সম্পাদক

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৫ পিএম

তারেক রহমান আরও আগে আসলে ভালো হতো: প্রথম আলো সম্পাদক

বিজ্ঞাপন

দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছেন,  দেশে একটি রাজনৈতিক শূন্যতা চলছে। এটা একটা বিপজ্জনক, বিএনপির জন্যও কিছুটা কঠিন অবস্থা। আমি মনে করি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আরও আগে আসলে ভালো হতো। ওনার দীর্ঘ অনুপস্থিতি বিএনপির জন্য কিছুটা প্রশ্নবোধক ও বিভ্রান্তিকর হয়েছে। যা নেতিবাচক হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর বনানীতে একটি রেস্টুরেন্টে গণমাধ্যম সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মতিউর রহমান বলেন, ‘‘আমি সব সময়ই ভাবতাম বা এখনও মনে করি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরেকটু আগে আসতে পারলে বিএনপি ও দেশের মধ্যে একটা ভালো এবং সুবিধাজনক অবস্থা তৈরি হতে পারতো।’’ তিনি বলেন, ‘‘গত ১৫ মাসে নানা স্তরে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড যা হয়েছে, যতটুকু জানি বা জানি না সেগুলো বিএনপির জন্য ভালো হয়নি।’’

‘‘সেগুলো নিশ্চয়ই তারেক রহমান জানেন, তবে এখনও সংশোধন করার সুযোগ আছে।’’

প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘‘আমি মনে করি, এখনও পর্যন্ত বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় দল। এটা স্বীকার করতে হবে।’’

‘‘আমরা যে জরিপ করেছি, আমরা বিশ্বাস করি— এটি মোটামুটি সত্যের কাছাকাছি। সেটা মানুষেরও চিন্তা জগতের কাছাকাছি। সেখানে বিএনপি কিন্তু বড় দল হিসেবে এসেছে।’’

প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘‘নির্বাচনে বিএনপি বড় বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হবে, এমন কথাও আছে। আমরাও সেটা বিশ্বাস করতে চাই— আপনারা ক্ষমতায় আসছেন। তাই দলের নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বিনয়, ভদ্রতা অনেক বেশি প্রতিফলন হওয়া দরকার।’’

‘‘তবে আপনারা যে প্রার্থী তালিকা করেছেন, এটিও মানুষের কাছে তেমন উৎসাব্যঞ্জক মনে হচ্ছে না কোনও কোনও জায়গায়। এ বিষয়ে আপনাদের বিবেচনা করা সম্ভব কিনা, বলতে পারবো না। তবে আরেকটু ভেবে দেখা দরকার।’’

তিনি বলেন, ‘‘মতবিনিময়ে আমাদের সবাইকে ডেকেছেন ভালো হয়েছে। কেউ বলতে পারবে না শুধু বিএনপিপন্থি সাংবাদিকরা আসছেন। সবাইকে একসঙ্গে করতে পেরেছেন, এটা আপনাদের বড় সফলতা। ছয় মাস, তিন মাস নয় বা মাসেও এ ধরনের অনুষ্ঠান হতে পারে।’’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘বিগত সরকারের সময় শুধু তাদের পছন্দের সাংবাদিকদের তারা আমন্ত্রণ জানাতেন। আমাদেরসহ কিছু কিছু সংবাদপত্র বলতে গেলে নিষিদ্ধ ছিল। মাহমুদুর রহমানের কথা নাইবা বললাম, উনি তো জেলেই ছিলেন।’’

‘‘তার বাইরে যদি বলতে হয়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর যখন হামলা ও আক্রমণ হয়েছে, আমাদের বিপদের সময় আপনারা দলমত নির্বিশেষে ও আমাদের প্রেসক্লাব আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’’

‘‘আমি মনে করি, এই প্রকাশটাও আমাদের সংবাদপত্রের জন্য গণতন্ত্রের সম্ভাবনার জন্য খুব ভালো একটি ক্ষেত্র হয়েছে। এটি রক্ষা করতে পারলে, আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে। আর আমারা চাই নির্বাচন সুষ্ঠু হোক, আমি সব সময় এটি বলে এসেছি। যত কিছুই হোক নির্বাচন হবে। অনেকে সন্দেহ পোষণ ও প্রশ্ন করতো, তাদেরকে বলতাম আমি কোনও কিছুই সন্দেহ করি না ও ভাবি না।’’

প্রথম আলো সম্পাদক আরও বলেন, ‘‘আমার মনেও প্রশ্ন জাগছে, যে সময়টা যাচ্ছে আগামী দুইটা মাস কেমন চলবে।’’

‘‘বিশেষ করে বিগত কয়েক দিন যে ঘটনা ঘটেছে, সে প্রেক্ষিতে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, নির্বাচন কতটুকু ভালো হবে।’’

‘‘আর নির্বাচন উত্তর সরকার গঠন করলে, বিএনপি কেমন করতে পারবে সমর্থকদের সঙ্গে। আমাদের অভিজ্ঞতায় বিগত ৫০ দশকে কোনও সরকারই নানা কারণে ভালো থাকতে পারেনি। সব সরকারই খুব সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছে। তবে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি চাপে ছিলো সংবাদপত্র।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘কারও কারও ক্ষেত্রে এটি ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। মাহমুদুর রহমানকে জেলে যেতে হয়েছে। তার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’’

‘‘বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে সামরিক ও বেসামরিক সরকারের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল বিগত সরকারের সময়ে। এটা শুধু প্রথম আলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল না।’’

‘‘ডিজিএফআই বা অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা যেভাবে হস্তক্ষেপ করেছে, রাতে-দিনে বা সকালে নানা ক্ষেত্রে এমনটি ছিল। পত্রিকার মালিক ও সম্পাদক বদল করা ছিল সর্বশেষ চেষ্টা।’’

‘‘যদি জুলাই আগস্টের পরিবর্তন না হতো, তাহলে বর্তমানের মতো পরিবেশ থাকতো না। এদিক থেকে আমরা একটি সরাসরি বড় আকারে উপকার আমাদের জন্য হয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিএনপির শাসনামলেও খুব ভালো ছিলাম তা না। তবে বিগত সরকারের চেয়ে কিছুটা স্বস্তিদায়ক ছিল।  যখন শেখ হাসিনা ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসলো, এর কিছু দিন পরই ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তছনছ। আমরা বলছিলাম প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সামলান।’’

‘‘কিন্তু তাদের দৌরাত্ম্য চলতেই থাকলো। তিনি তাদেরকে সামলাতে পারলেন না।’’

‘‘২০০১ সালে বিএনপি জেতার পরও মোটামুটি এরকমই চলতে থাকলো।

তখনও লিখলাম, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাত্রদলকে সামলান। তিনি সামলানোর চেষ্টা করলেন।’’

‘‘আমি এটা জানি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং তারেক রহমানের সঙ্গে। তারা আমাকে আশ্বস্ত করলেন সেদিন রাতেই, যে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। মতি ভাই আপনি দেখেন— তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছিল।’’

‘‘তখন ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন পিন্টু গ্রেফতার হয়েছিলেন।’’

‘‘বিএনপি সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছিল। যদিও পরবর্তীকালে সে অবস্থা নানা কারণে থাকতে পারেনি। পার্থক্য এটুকুই।’’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার