বিজ্ঞাপন
শুটার ফয়সালের যে প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল শহীদ হাদি
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:২১ পিএম
বিজ্ঞাপন
গোয়েন্দা তদন্তে উঠে এসেছে, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ছিল একটি সুপরিকল্পিত মিশন।
বিদেশ থেকে ফিরে একটি ‘শ্যুটার টিম’ গঠন করা হয়। টার্গেট বাস্তবায়নে আগে সখ্যতা গড়ে তোলা হয়, এরপর মাত্র সাত দিনের মধ্যেই চালানো হয় প্রাণঘাতী হামলা।
হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দেশ ছেড়ে চলে যায় মূল অভিযুক্ত শ্যুটার ফয়সাল। গুরুত্বপূর্ণ আলামতও গায়েব করা হয় পরিকল্পনা অনুযায়ী।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার নেপথ্যে এমনই এক সুপরিকল্পিত মিশনের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।
হাদি এবং শ্যুটার ফয়সালের পরিচয় হয় ইনকিলাব মঞ্চের কালচারাল সেন্টারে।
শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে হত্যার আগে শ্যুটাররা কীভাবে হাদিকে অনুসরণ করে ও ধাপে ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।
সখ্যতা গড়ার প্রথম বৈঠক
গত ৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১৮ মিনিটে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে আসেন শ্যুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী কবির।
প্রায় ছয় মিনিটের সেই বৈঠকে ফয়সাল হাদির সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন। এটি ছিল ঘনিষ্ঠতা তৈরির প্রথম ধাপ। আর এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান ওসমান হাদি।
এরপর ৯ ডিসেম্বর রাতে ফয়সাল আবার কালচারাল সেন্টারে আসেন। এবার তার সঙ্গে ছিলেন আলমগীর। এই বৈঠকে নির্বাচনী প্রচারণার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখান থেকেই হাদির টিমে ঢুকে পড়েন ফয়সাল। ১০ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় হাদির প্রচারণায় সরাসরি অংশ নেন তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান নিয়ে নানামুখী তথ্য প্রচার পাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে, তার ভারত পলায়ন সংক্রান্ত ধারণাটি। এ বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, জুলাই বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। ফয়সাল দেশের বাইরে চলে গেছেন এমন নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, সে যে দেশের বাইরে চলে গেছে এমন নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাইনি। অনেক সময় অপরাধীরা তাদের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকে। ফয়সালের শেষ অবস্থানের বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এটা পেতে আমাদের বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সফলতা-ব্যর্থতা আপনারা বলতে পারবেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমাদের প্রত্যেকটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অর্গান, আমাদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ডিএমপি, ডিবি, বিজিবি—সবাই কাজ করছে।
রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার প্রশ্নে তিনি বলেন, এইটা আমাদের তদন্তকারী তদন্ত সংস্থাই বলতে পারবে। আমরা এখনো এরকম কোনো...ক্লিয়ার কোনো ইয়েতে আসতে পারিনি। এই বিষয়গুলো আমরা পুরো তদন্তটা শেষ করলেই তখন আপনাদের জানাতে পারবো। ঘটনাস্থল থেকে যে বুলেট পাওয়া গেছে সেগুলো নিয়ে এখন অস্ত্র মামলা করেছে।
অতিরিক্ত আইজিপি আরও বলেন, আমরা অবশ্যই জনদাবি বা পাবলিকের যে রিসেন্টমেন্ট সেটাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী আছে, আমরা আমাদের সর্বোচ্চটাই ঢেলে দিতে পারি, এটা আমরা অব্যাহত রেখেছি। এ ঘটনায় যাদের যাদের নাম আসছে আমরা অনেককেই নজরদারিতে রেখেছি। আমরা তাদের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে। এখানে ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে হয়নি। ঘটনার শুরু থেকে আমরা মাঠে ছিলাম। সব এজেন্সি সমন্বিতভাবে কাজ করেছি। এটা আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য সব দিকগুলো দেখছি।
এদিকে আগামীর কর্মসূচি ও দাবি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। তারা জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে আগামীর কর্মসূচি ও দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, দশ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ও উচ্চকিত সম্মতিতে ঘোষিত ইনকিলাব মঞ্চের ২ দফা দাবির ১ দফাও মানা হয়নি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সহ-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ব্যাখ্যা দেয়নি। সিভিল-মিলিটারি গোয়েন্দা সংস্থার ওপর প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপনপূর্বক সেসব সংস্থা থেকে হাসিনার চরদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন