Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

প্রবাসে রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৯ পিএম

প্রবাসে রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

বিজ্ঞাপন

কুয়েতে শাহজাহান রনি (২৫) নামে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম পৌর প্রশাসকের মাধ্যমে রনির পরিবার মৃত্যুসংবাদটি জানতে পারে। তবে পরিবার দাবি করছে—এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা।

রনি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কমলপুর গ্রামের তোফায়েল আহাম্মেদ ও নাছিমা দম্পতির একমাত্র ছেলে। প্রায় ২৭ মাস আগে একই গ্রামের মীর হোসেনের মাধ্যমে কুয়েতে যান তিনি। সেখানে সাবা আল নাসের এলাকায় মীর হোসেনের একটি ‘বাকালা’ দোকানে মাসিক বেতনে কাজ করতেন রনি। পরিবারের অভিযোগ—কাজের সূত্রে বহুদিন ধরেই রনি ও মীর হোসেনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যেও দেশে থাকা অবস্থায় উত্তেজনা তৈরি হতো।

রনির বাবা তোফায়েল আহাম্মেদ জানান, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় করে মীর হোসেনের মাধ্যমে ছেলেকে কুয়েতে পাঠানো হয়। সেখানে বিভিন্ন অজুহাতে রনিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তোফায়েল আরও জানান, ৩ ডিসেম্বর ভোরে রনি তার মা নাছিমা বেগমকে ফোন করে বলেছিল, মা মীরু আমাকে বাঁচতে দেবে না। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই। ১৭ দিন পর প্রশাসনের মাধ্যমে আসে মৃত্যুর সংবাদ।

পরিবারের দাবি, নিখোঁজ থাকার সময় মীর হোসেন বিষয়টি গোপন রাখেন এবং তাদের বিভ্রান্ত করেন। কখনো জানান,রনি জেলে আছে, আবার পরবর্তীতে বলেন,রনি তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। এমনকি পরিবারের বেশি খোঁজখবর নিলে ‘সমস্যা হবে’ বলে হুমকিও দেন।

চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে মৃত্যুসংবাদ পাঠানো হয় পৌর প্রশাসক মো. নুরুল আমিনের সরকারি নম্বরে। চিঠিতে উল্লেখ ছিল-গত ৪ ডিসেম্বর কুয়েতের জাহরা মতলা এলাকায় এক দুর্ঘটনায় শাহজাহান রনির মৃত্যু হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার ধরন বা বিস্তারিত কোনো তথ্য সেখানে উল্লেখ ছিল না।

মৃত্যুসংবাদে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। রনির মা নাছিমা বেগম দাবি করেন,আমার ছেলে আগেই বলেছিল তাকে মেরে ফেলা হবে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিতভাবে ওকে হত্যা করা হয়েছে। আমি বিচার চাই।

এ বিষয়ে কুয়েত থেকে অভিযুক্ত মীর হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমি আড়াই বছর আগে রনিকে কুয়েতে এনে চাকরি দিয়েছি। ৪ ডিসেম্বর সে আমাকে কিছু না বলেই অন্যত্র চলে যায়। হত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। দূতাবাসই প্রকৃত কারণ জানাবে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নুরুল আমিন বলেন, প্রবাসী কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মৃত্যুসংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে পরিবারকে জানাতে নির্দেশ দেন। আমরা বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি। যদি পরিবার অভিযোগ করে, দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

পরিবার ইতোমধ্যেই রনির মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার