বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিমানবন্দরের অনিয়মের চিত্র বদলে দিচ্ছেন নয়া ম্যাজিস্ট্রেট
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সদ্য দায়িত্ব গ্রহণের পর একাধিক শৃঙ্খলামূলক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ নিয়েছেন নওশাদ খান। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী হয়রানি, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত এই বিমানবন্দরে তার কার্যক্রম ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি বিমানবন্দরের ভেতরে খাবারের দোকানগুলোতে অতিরিক্ত দামে ও বাসি খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ওয়াশরুমে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দ্বারা বকশিস আদায়ের নামে যাত্রী হয়রানির বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া যাত্রীদের সহায়তার জন্য হেল্প ডেস্ক কার্যকর করা এবং জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হিসেবে লাগেজ রিলিজকারী কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, এসব ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনেই থাকবে। এর ফলে লাগেজ চুরি ও হয়রানির অভিযোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবাসী যাত্রীদের একটি অংশ এসব উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরে যে অনিয়ম চলছিল, তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের সূচনা হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেটের কারণে এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন ও টিকিয়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ ও চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
বিশিষ্টজনদের মতে, নওশাদ খান যদি ধারাবাহিকভাবে তার অবস্থানে অটল থাকতে পারেন, তাহলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ঢাকা বিমানবন্দরের সেবার মানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে।এদিকে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই তরুণ কর্মকর্তার নিরাপত্তা ও সাফল্য কামনা করছেন এবং আশা প্রকাশ করছেন, তার উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে যাত্রী ভোগান্তি কমবে।
বিজ্ঞাপন