বিজ্ঞাপন
দিল্লি-আগরতলা-শিলিগুড়িরতে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করলো বাংলাদেশ
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন, ত্রিপুরার আগরতলায় সহকারী হাই কমিশন ও শিলিগুড়ির ভিসা সেন্টার থেকে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে বাংলাদেশ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব সেবা স্থগিত থাকবে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রধান ফটকের সামনে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ টানানো হয়েছে, যেখানে ভিসা ও কনসুলার সেবা বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়।
এর আগে গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে চরমপন্থি সংগঠন ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’–এর ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য বিক্ষোভ করেন। তারা প্রায় ২০ মিনিট ধরে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন।
এই ঘটনার পর থেকেই দিল্লিতে হাইকমিশনার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, হাইকমিশনারের পরিবার বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং তারা হুমকি অনুভব করছেন।
দিল্লির পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য শহরেও বাংলাদেশবিরোধী কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে। শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেন্টারের সামনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নামের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই ভিসা সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বিক্ষোভকারীরা ভবিষ্যতে এটি আর চালু না করার হুমকিও দেন।
অন্যদিকে, কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিক্ষোভ করে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিকেলে বেগবাগান মোড় থেকে শত শত বিক্ষোভকারী মিছিল নিয়ে ডেপুটি হাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হলে কলকাতা পুলিশ প্রায় ২০০ মিটার দূরে তাদের বাধা দেয়।
বিক্ষোভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ ডিসেম্বর বিভিন্ন সীমান্তে প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি দাবি করেন, দীপুচাঁদ দাসসহ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এক কেজি পেঁয়াজও বাংলাদেশে যেতে দেওয়া হবে না।
এছাড়া তিনি আগামী ২৬ ডিসেম্বর আবারও কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা দেন।
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কূটনৈতিক মিশন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন