বিজ্ঞাপন
দুবাইয়ে মৃত্যু : জমি থেকে বঞ্চিত করলেন বাবা, এলেন না জানাজায়ও
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৫ এএম
বিজ্ঞাপন
দুবাইয়ে কনস্ট্রাকশনের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত যুবক আনোয়ার হোসেনের (৩৩) মরদেহ ১৯ দিন পর নিজ গ্রামে পৌঁছালেও শেষ বিদায়ে পাশে থাকেননি তাঁর বাবা ও সৎভাই। জমি নিয়ে সম্ভাব্য চাপের আশঙ্কায় মরদেহ বাড়িতে আসার আগেই তারা পালিয়ে গেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জের গাবেরগ্রাম এলাকায়।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে গাবেরগ্রাম স্কলার্স একাডেমি মাঠে আনোয়ার হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জানাজায় অংশ নেননি নিহতের বাবা শাজাহান (ওরফে সাজা বাঘা) ও তার সৎ ভাই।
স্থানীয় নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ‘নিহত আনোয়ার হোসেন শাজাহানের প্রথম স্ত্রীর সন্তান। প্রায় দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে দুবাই যান আনোয়ার।
চলতি মাসের ৩ ডিসেম্বর দুপুরে একটি ভবন নির্মাণকাজে নিয়োজিত অবস্থায় ওপর থেকে ভারী কনস্ট্রাকশন সরঞ্জাম পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নানা প্রক্রিয়া শেষে শনিবার দিবাগত রাতে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।’
স্থানীয়রা জানান, ‘নিহতের বাবা শাজাহান দুটি বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর তিন সন্তান রয়েছে, যাদের নামে আগেই জমি লিখে দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু প্রথম স্ত্রীর সন্তান আনোয়ার হোসেনের নামে কোনো জমি বা সম্পত্তি লিখে দেননি। আনোয়ার হোসেনের দুইটি ছোট সন্তান রয়েছে। জানাজায় অংশ নিতে হলে তার সন্তানদের নামে জমি দেওয়ার বিষয়ে সামাজিক চাপ আসতে পারে এই আশঙ্কায় শাজাহান ও তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।’
গাবেরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল বলেন, ‘একজন বাবা হয়ে নিজের সন্তানের জানাজায় না যাওয়া খুবই লজ্জাজনক। আনোয়ার ছোটবেলা থেকেই কষ্ট করে বড় হয়েছে।
আজ সে মারা গেল, অথচ তার বাবাই শেষ বিদায়ে পাশে থাকল না এটা খুব দুঃখজনক।’
নিহতের চাচা জাহিদুল বলেন, ‘আমার ভাই অনেক আগেই তার দ্বিতীয় দিকের ছেলে-মেয়েদের নামে জমি লিখে দিয়েছে। কিন্তু আনোয়ারের দুইটা ছোট সন্তান কিছুই পায়নি। জানাজায় লোকজন যদি তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভাইকে জমি লিখে দিতে বলেন। এই ভয়ে তারা পালিয়ে গেছে। এটা শুধু পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই লজ্জার।’
নিহতের সৎ ভাই সবুজ আহমেদ বলেন, ‘ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার দিনই দুবাই থেকে জানানো হয়েছিল ৬০-৭০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আসবে। কিন্তু বাস্তবে এসেছে মাত্র ৬ লাখ টাকা। বাবা যদি মৃত ভাইয়ের ছেলে-মেয়ের নামে জমি লিখে না দেন, তাহলে লাশ দাফনে বাধা দেওয়া হবে এবং বাবার ওপর হামলা করা হবে। এই হামলার আশঙ্কাতেই তিনি বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।’
বিজ্ঞাপন