Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

পে স্কেল ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর, জানা গেল নতুন তথ্য

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫২ এএম

পে স্কেল ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর, জানা গেল নতুন তথ্য

বিজ্ঞাপন

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) আইডিআরএ’র নির্বাহী পরিচালক (নন-লাইফ) মনিরা বেগম স্বাক্ষরিত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যা নতুন পে স্কেল প্রবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এই নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে তারা বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রে পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন। বিশেষভাবে দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবি করা কর্মচারীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেল প্রবর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, গ্রেড ও বেতন কাঠামোর পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের মোট আয় বাড়বে এবং বেতন কাঠামোকে বর্তমান বাজার ও জীবনের ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি খাতের এই পে স্কেল উন্নয়ন কর্মীদের জীবনযাত্রা ও প্রেরণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে একই সঙ্গে সরকারের জন্য বাজেটের ওপর চাপও বাড়তে পারে। বিশেষভাবে দশম ও এগারতম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারি খাতে বড় অঙ্কের অর্থের ব্যয় যুক্ত হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে পরবর্তী মাসের বেতন-ভাতায় এটি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ জানুয়ারি মাসের বেতন নতুন গ্রেড অনুসারে প্রদান করা হবে। এতে প্রাথমিকভাবে সরকারি অফিসগুলোতে হিসাব-নিকাশ ও বেতন প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরকারি কর্মচারীদের আয় বৃদ্ধি দেশের ভোক্তাপ্রবণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজেট পরিকল্পনা ও সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্যের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের মনোবল ও কর্মদক্ষতার উন্নয়নের জন্য এটি বড় ধরনের উদ্দীপনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পে স্কেল কার্যকর হওয়ায় চাকরিজীবীরা তাদের দায়িত্ব পালন এবং সেবার মান উন্নয়নে আরও উৎসাহী হবেন।

সার্বিকভাবে, ১ জানুয়ারি থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়া সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর হলেও সরকারের বাজেট পরিকল্পনা, অফিস প্রশাসন ও ভবিষ্যৎ আর্থিক দিক বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।

পে স্কেলের রিপোর্ট চূড়ান্ত : বেতন সবনিম্ন ৩২০০০ সর্বোচ্চ ১২৮০০০

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। নবম পে স্কেল মোট তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপের সুপারিশ জমা হবে আগামী জানুয়ারি ২০২৬-এ জাতীয় বেতন কমিশনের মাধ্যমে। পরবর্তী ধাপে সরকার উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা ও বাজেট বরাদ্দের পর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

গ্রেড কাঠামো: বর্তমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১৩টি গ্রেডে আনা। সর্বনিম্ন বেতন: ৩২,০০০ টাকা। সর্বোচ্চ বেতন: ১,২৮,০০০ টাকা।

সরকারি কর্মচারী সংগঠন এবং সমন্বয় পরিষদ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় ১ জানুয়ারি থেকে কঠোর কর্মসূচি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

জাতীয় বেতন কমিশন গত দশ বছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ৯০ থেকে ৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি করার সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবিত বেতন ধাপে ধাপে গ্রেড অনুযায়ী: 

*গ্রেড-২: ১,২৭,৪২৬ টাকা

* গ্রেড-৫: ৮৩,০২০ টাকা

* গ্রেড-৮: ৪৪,৪০৬ টাকা

* গ্রেড-১০: ৩০,৮৯১ টাকা

* নিম্ন গ্রেড-২০: ১৫,৯২৮ টাকা

নিম্নতম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে বেতন বৈষম্য দূর করা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা লক্ষ্য করা হয়েছে।

নবম পে স্কেল ঘোষণার দীর্ঘসূত্রতা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং হতাশা তৈরি করেছে। প্রাথমিক শিক্ষকেরা ১০ম গ্রেড বেতন বৃদ্ধির দাবিতে অনশন ও ধরণা কর্মসূচি চালাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ১ জানুয়ারি থেকে লং মার্চ ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের ব্যয় বছরে ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেতন বৃদ্ধির ফলে কর্মচারীর ক্রয় ক্ষমতা ও কর রাজস্ব বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাজেট চাপ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছ বিতরণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

নবম পে স্কেল সরকারি কর্মচারীদের জীবনের মান উন্নয়নে বড় সুযোগ। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ এবং বেতন বৈষম্য কমানোর মাধ্যমে কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ও গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো আশা করছে, ২০২৬ সালের শুরুতে পে স্কেল কার্যকর হলে তা শুধু বেতন নয়, প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনসেবার মানও উন্নত করবে। তবে বাজেট, স্বচ্ছতা এবং সঠিক বাস্তবায়ন ছাড়া এই পরিকল্পনা কেবল প্রতিশ্রুতিতেই সীমিত থেকে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার