বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ইউরেনিয়াম উত্তোলনে ভারতের বাধা, কিন্তু কেন?
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:০৬ এএম
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সংরক্ষিত নথিতেও সিলেট অঞ্চলে ইউরেনিয়ামের উল্লেখ আছে। কিন্তু এতদিনেও এই খনিজ উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ইউরেনিয়াম উত্তোলনে ভারতের বাধাই কি প্রধান কারণ?
বাংলাদেশের সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে সম্ভাব্য ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ে আলোচনা কয়েক দশকের পুরোনো। স্বাধীনতার পর ১৯৭০ ও ৮০–এর দশকে পরিচালিত কিছু ভূতাত্ত্বিক জরিপে এই অঞ্চলে ইউরেনিয়াম যুক্ত বালু ও শিলার উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রথম ও প্রধান আপত্তি, দেশটি কখনই চায় না বাংলাদেশ আণবিক শক্তির অধিকারী হোক। ভারত সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র চীন,পাকিস্তানের পর আরেকটা আণবিক শক্তির রাষ্ট্রর মোকাবেলা করতে কখনই সম্মতি দিবে না।
সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে ইউরেনিয়াম একটি কৌশলগত পারমাণবিক খনিজ হওয়ায় সীমান্তের কাছাকাছি এমন খনন কার্যক্রম ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে দেশটির অবস্থান। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নিরাপত্তাজনিত সংবেদনশীলতার প্রেক্ষাপটে এই উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হলো কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহারে সক্ষম হয়।
তাহলে দেশটি পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে আংশিক স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে, যা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অস্বস্তিকর।
এছাড়া চীন বা রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশের প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশ ইউরেনিয়াম প্রকল্পে এগোলে, তা ভারতের নিরাপত্তা হিসাবকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ভেতরে ইউরেনিয়ামের সম্ভাবনা শুধু একটি খনিজ ইস্যু নয়;নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন