বিজ্ঞাপন
ঢামেকের ট্রলিতে পাওয়া মরদেহটি রাশেদার
ঢাকায় এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৬ এএম
বিজ্ঞাপন
অবশেষে পরিচয় মিলেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগের সামনে টলিতে ফেলে রাখা সেই তরুণীর মরদেহের। সোমবার রাতে ‘স্বামী’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি মরদেহ রেখে কৌশলে পালিয়ে যান। অজ্ঞাতপরিচয়ে থাকা সেই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করেছেন স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, ওই তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে গিয়ে বড় বোন খালেদা ও ভগ্নিপতি মামুন মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহতের বোন খালেদা আক্তার জানান, ঢামেকে পাওয়া ওই তরুণীর মরদেহ তাঁর ছোট বোনের। তাঁর নাম রাশেদা আক্তার (২২)। রাশেদা মাগুরা সদর উপজেলার পুখুরিয়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের মেয়ে। সম্প্রতি মাগুরার আলোকদিয়া অমরেশ বসু ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন রাশেদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য মাত্র ১৬ দিন আগে মাগুরা থেকে ঢাকায় মিরপুরে তাঁর (খালেদা) বাসায় আসেন। রাশেদা পড়ালেখার পাশাপাশি মিরপুরে একটি পোশাক কারখানায় যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেল।
রাশেদার ভগ্নিপতি মামুন জানান, মঙ্গলবার সকালে মাগুরা থেকে ফোনে তারা জানতে পারেন যে, এলাকায় রটেছে নয়ন নামের এক যুবক রাশেদাকে মেরে ফেলেছে এবং তার পরিবার পলাতক। এরপরই তারা হাসপাতালের মর্গে ছুটে আসেন।
খালেদা আক্তারের অভিযোগ করে বলেন, ‘রাশেদাকে গ্রামের প্রতিবেশী মতিউর রহমানের ছেলে নয়ন ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করত। নয়নের যন্ত্রণায় আমার বোন ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারত না। সেই নয়নই আমার বোনকে শ্বাসরোধ করে মেরে ঢাকা মেডিকেলে ফেলে রেখে পালিয়েছে। আমরা নয়নসহ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার কঠিন বিচার চাই।’
নিহতের ভগ্নিপতি মামুন জানান, গত শনিবার রাশেদা কর্মস্থলে যাননি। রাত ৮টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরে জানা যায়, ওই রাতে নয়ন মিরপুরে রাশেদার বাসার সামনে এসে তার সঙ্গে দেখা করেন। একটি দোকানের সামনে তাদের দুজনকে প্রচণ্ড ঝগড়া করতেও দেখা গেছে। এরপর থেকেই রাশেদা নিখোঁজ ছিলেন এবং তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আজম বলেন, নিহতের স্বজনেরা মঙ্গলবার রাতে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। অভিযুক্ত নয়নকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
বিজ্ঞাপন