বিজ্ঞাপন
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: ১ কোটি সিম ঢুকেছে ঢাকায়
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
আজ ২৫ ডিসেম্বর। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে দিনটি। তবে বড় দিনের সাথে মিলে গেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আয়োজন। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তাকে বরণ করে নিতে সারা দেশ থেকে ঢাকায় এসেছে জনসমুদ্র। বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে ১ কোটিরও বেশি সিম ঢাকায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে।
সূত্র মতে, ১১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১০ লাখের বেশি নতুন সিম ঢাকায় প্রবেশের রেকর্ড পাওয়া গেছে। তবে এ সংখ্যা দিয়ে জনগণের হিসাব করা যাবে না। এরমধ্যে অনেকেই দুই কিংবা তিনটি সিম ব্যবহার করেন। এদিকে টানা তিনদিনের সরকারি ছুটিতে প্রায় ১৭ লাখ সিম ঢাকার বাইরে গিয়েছে বলেও জানিয়েছে বিটিআরসি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা এনপিবি নিউজকে জানান, 'সারাদেশে সচল ব্যবহৃত সিমের তথ্য বিটিআরসির কাছে রয়েছে। এসব সিমের মুভমেন্ট লক্ষ করা যায়। সাধারণত ঈদ কিংবা পূজায় প্রচুর সিম ঢাকার বাইরে যায়। ঢাকায় রাজনৈতিক সমাবেশ না ঘটলে সিম ঢোকে না। আজকের সমাবেশের উদ্দেশ্যে গতকাল থেকেই অস্বাভাবিক সিমের আগমণ ঘটেছে ঢাকা শহরে। আমরা এখন পর্যন্ত ১১ মিলিয়ন সিমের ঢাকায় প্রবেশের তথ্য পেয়েছি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রামীণফোনের। রবি এবং বাংলালিংকের প্রবেশও অনেক।'
অতিরিক্ত সিমের প্রবেশ ঘটায় এয়ারপোর্ট, খিলক্ষেত ও বসুন্ধরা তিনশো ফিট এলাকায় নেটওয়ার্কের সমস্যা দেখা গেছে। খিলক্ষেতের বাসিন্দা মাইনউদ্দিন হোসেন এনপিবি নিউজকে বলেন, 'সকাল থেকে ফোনের স্বাভাবিক নেটওয়ার্ক পাচ্ছি না। ফোনের ডেটা (ইন্টারনেট ব্যবহার) ইউজ করা যাচ্ছে না। ওয়াইফাই দিয়ে নেট ইউজ করতে হচ্ছে। সিম থেকে কাউকে কল করে কথা বলা যাচ্ছে না। অনেকে বাইরে থেকে ফোন দিয়ে সিম বন্ধ পাচ্ছে বলে জানিয়েছে।'
সমাবেশ স্থল থেকে জানা গেছে, তিনশো ফিট এলাকায় ফোনের স্বাভাবিক নেটওয়ার্ক নেই। এখানে কমপক্ষে ৩০ লাখ লোকের সমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছে উপস্থিত জনগণ। এছাড়া এয়ারপোর্ট, কুড়িল বিশ্বরোড, যমুনা ফিউচার পার্ক এবং খিলক্ষেতেও অসংখ্য মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নিরাপত্তারক্ষী আজ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষী।
লোক সমাগমের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম থেকে আগত যুবদল নেতা হামিদুর রহমান এনপিবিকে বলেন, 'ঢাকা যেন মানুষের কক্সবাজারে পরিণত হয়েছে। এখানে শুধু মানুষ আর মানুষ। একসাথে যারা গ্রুপ করে এসেছেন তারা একবার আলাদা হলে আর একত্রিত হতে পারছেন না। এখানে ফোনেরও নেটওয়ার্ক নেই। আমরা একসঙ্গে অনেক নেতা-কর্মী এসেছি। কেউ কেউ আলাদা হয়ে যাওয়ায় আর একত্রিত হতে পারছি না। আমার ধারণা, এখানে ৫০ লাখ লোকের বেশি এসেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জনসমাগম।'
এভারকেয়ার হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে আসবেন তারেক রহমান। সেই উদ্দেশ্যে এই এলাকার নিরাপত্তা বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে দলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর অবস্থা যেন তৈরি না হয় সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন