Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে ৩৪টি গুজব শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৬ এএম

খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে ৩৪টি গুজব শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ যাত্রায় আর ফিরলেন না। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় চিকিৎসাধীন থেকে ৮০ বছর বয়সে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।  

গেল কয়েক বছর ধরেই বার বারই খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গুজব আর গুঞ্জন ছিল সর্বত্র। রিউমর স্ক্যানার খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সংক্রান্ত প্রথম গুজব শনাক্ত করে ২০২১ সালে। সে বছরের ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ২৭ এপ্রিল তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ এরপরই নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে থাকে তাকে নিয়ে। 

সে বছরের নভেম্বরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এক নারীর ছবি বেশ ভাইরাল হয়, যাকে খালেদা জিয়া বলে দাবি করা হচ্ছিল। রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখে, জালাল উদ্দীন ওয়াসিম নামে এক ব্যক্তির মায়ের ছবি এটি, যিনি সে বছরের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান৷ 


এই ফ্যাক্টচেকের পরও পরের বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে এই নারীকে খালেদা জিয়া দাবি করে প্রচার চলেছে।

পরের বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়াকে অসুস্থতাজনিত কারণে হাসাপাতালে যেতে হয়েছে। সঙ্গী ছিল গুজব আর অপতথ্যের প্রচারও। গত বছরের ২১ জুন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। পরদিনই তার হৃদ্‌যন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়। ২জুলাই তিনি বাসায় ফেরেন। এর মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে তার মৃত্যুর গুজব। 

২০২৪ সালে আরো দুই দফায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দাবিটি ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জুলাইতে ছাত্র-জনতা যখন রাস্তায় নেমে এসে আন্দোলনে উত্তাল করে তুলেছিল রাজপথ, সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছিল, খালেদা জিয়া মারা গেছেন। 

তৎকালীন সরকারের নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার মধ্যে সেসময় এই দাবিটি মানুষের মুখে মুখেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এই গুজব বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে অনেকের কাছে। পরবর্তীতে বিষয়টি গুজব বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। 

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ৬ মে তিনি দেশ ফেরেন। তার লন্ডন থাকাকালীন সময়ে অন্তত দুইবার তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে। 

পরের মাসেই জালাল উদ্দীন ওয়াসিমের প্রয়াত মায়ের পুরোনো ছবিটি ব্যবহার করেই ফের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর গুজব ছড়ায় টিকটকে।।

লন্ডন থেকে খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পরও গুজবের এই প্রবাহ থেমে যায়নি। ২৬ মে ব্লগস্পটের ফ্রি ডোমেইনের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে দাবি করা হয়, সেদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’তে ইন্তেকাল করেছেন খালেদা জিয়া। 

চলতি বছরের এপ্রিলে রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে। 

খালেদা জিয়াকে সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিডনি, হৃদরােগ, নিউমোনিয়াসহ শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা বর্ষীয়ান এই নেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে সে সময় থেকেই উৎকণ্ঠা ছিল জনমনে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল নানা গুজবের প্রচারও। তিনি হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই কখনো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্ধৃত করে, কখনো তার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমানের বরাত দিয়ে প্রচার হয়েছে তার মৃত্যুর গুজব। গুজবের এই প্রসার কতটা তীব্র হয়ে উঠেছিল তা বোঝা যায়, এই দাবিটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার নানা উপায়ের ব্যবহার দেখে।

২৯ নভেম্বর মির্জা ফখরুলের নামে ভুয়া শোক বার্তা ছড়িয়ে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ শুনে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে তারেক রহমানের রওয়ানা হওয়ার দাবিতে পুরোনো ভিডিওর ব্যবহার এবং খালেদা জিয়ার মৃতদেহ দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন তিন বাহিনীর প্রধান দাবি করে গণমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড বানিয়ে প্রচার করা হচ্ছিল।

এমন দাবিও ছড়িয়েছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণমাধ্যমগুলোতে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করতে দিচ্ছে না।

এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন খালেদা জিয়া।

এই সময়ের মধ্যে তার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে অন্তত ৩৪টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। সবমিলিয়ে চলতি বছর খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে অন্তত ৪৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার