বিজ্ঞাপন
সরকারি বিজ্ঞাপনে ফয়সালের অভিনয়, ডিএনসির টিভিসি উধাও
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের অভিনয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের অংশ বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শনিবার সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডিএনসির ইউটিউব চ্যানেলে TVC 4 Final নামে একটি ভিডিও প্রথম আপলোড করা হয়েছিল গত বছরের ২৩ জানুয়ারি। পরে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ও ৪ নভেম্বর ভিডিওটি পুনরায় আপলোড করা হয়।
তবে শনিবার সকাল ১১টার পর ডিএনসির ইউটিউব চ্যানেলে TVC 3 এবং TVC 5 থাকলেও ধারাবাহিকভাবে থাকা TVC 4 ভিডিওটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। নেটিজেনদের দাবি, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামির সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ পাওয়ার পর তড়িঘড়ি করে ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তুলেছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই টিভিসির টেন্ডারটি ফয়সাল করিম মাসুদ নিজেই পেয়েছিলেন। তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই বিজ্ঞাপনটি তৈরি করা হয় এবং সেখানে তিনি নিজেও অভিনয় করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের পরও আওয়ামী লীগের পুরোনো সেটআপের লোকজনের মাধ্যমে এ ধরনের কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি হাদির সঙ্গে ফয়সালকে কারা পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, তাদেরও জনসমক্ষে আনার দাবি জানান তিনি।
জুলাই রেভুলেশন অ্যালায়েন্সসহ একাধিক ফেসবুক পেজের দাবি, জুলাই হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল অস্ত্র মামলায় বিতর্কিত জামিনে মুক্ত হয়ে এই শুটিংয়ে অংশ নিয়ে থাকতে পারেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় বা প্রভাব থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে তারা মনে করছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় ১৭ লাখ টাকা লুটের সময় অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ।
এ বিষয়ে জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন নম্বর দেন। তবে কেউই স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। শেষ পর্যন্ত জনসংযোগ কর্মকর্তার নম্বরেও একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে মতিঝিল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছেন।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ছয়জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পাশাপাশি চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
বিজ্ঞাপন