বিজ্ঞাপন
আটক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কে এই মাহদী
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার সন্ধ্যায় তাকে জেলা শহরের এক আইনজীবির বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার জানা, মাহদীকে কি কারনে পুলিশ আটক করেছে এখনো তিনি স্পষ্ট নন। তবে পুলিশ তাকে জানিয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এব্যাপারে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ২ জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় আসামি ছাড়াতে গিয়ে মাহদী হাসানের বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছেন এবং এসআই সুশান্তকে মেরেছেন মর্মে স্বীকার করে পুলিশকে হুমকি দেন। এই অপরাধে তাকে আটক করা হতে পারে।
এর আগে শনিবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় মাহদী হাসানকে শোকজ করেন এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ বরাবর দপ্তরের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মাহদী হাসান সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর গ্রাম থেকে এনামুল হাসান নয়ন নামে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানায়- উপজেলা ছাত্রলীগের একটি কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে তার নাম রয়েছে। তাই আটক করা হয়েছে।
এদিকে, নয়ন আটকের খবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীর কাছে গেলে তারা তাকে ছাড়াতে থানায় হাজির হন। সেখানে ওসিকে বলেন, সে ছাত্রলীগ করত ঠিকই আছে কিন্তু ২০২৪ এর ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রলীগ ছেড়ে তাদের সাথে আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। তাই তাকে ছেড়ে দিয়ে পুলিশ প্রেসার করা হয়।
‘আমরা থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’—এমন হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে প্রকাশ্যে বাগবিতণ্ডায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে। থানার ভেতরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায়। পরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দাবি করে অতীতের সহিংস ঘটনার উল্লেখ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।
ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা আন্দোলন করে গভমেন্টকে রিফর্ম করেছি। সেই জায়গায় প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন। এখন বলছেন, আন্দোলনকারী হয়েছেন তো কী হয়েছে? আমাদের এইখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে এই কথা বললেন জানতে চাই।’
এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রদের একটি দল থানায় গিয়ে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে চাপ দেয়। পুলিশ প্রথমে তাকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে মাহদী হাসানের তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে চাপের মুখে পুলিশ এনামুল হাসান নয়নকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
হবিগঞ্জ আদালতের একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, মাহদী হাসানের এই বক্তব্য ভবিষ্যতে এ ঘটনায় মামলা হলে তা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হিসেবে অপরাধের প্রমাণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, তিনি রাগান্বিত অবস্থায় কথা বলার সময় ‘স্লিপ অব টাং’-এর কারণে ওই বক্তব্য বেরিয়ে গেছে। পরে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, নয়ন নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা নয়ন ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিল—এমন ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দেখান। তখন থানার ভেতরে কথাবার্তা হয় এবং সেই সময়ের একটি ভিডিও তিনি দেখেছেন।
আটক ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, নয়ন একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মনে হয়, তবে বর্তমানে তিনি ছাত্রলীগে নেই।
বিজ্ঞাপন