Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

অ্যামেরিকান ভিসা নিয়ে সুখবর, তবে আছে কঠিন শর্ত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

অ্যামেরিকান ভিসা নিয়ে সুখবর, তবে আছে কঠিন শর্ত

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বাংলাদেশিদের জন্য একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে নতুন বাস্তবতার বার্তা এসেছে। ভিসা বন্ড নীতির আওতায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হলেও শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে কোনো নতুন শর্ত আরোপ করা হয়নি। তবে ব্যবসা ও ভ্রমণ ভিসার আবেদনকারীদের জন্য আসছে কঠিন আর্থিক শর্ত।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভিসা বন্ডের আওতাধীন নতুন দেশের তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত সময় অবস্থান বা ওভারস্টে প্রবণতা কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতায় এই নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই নিয়ম কেবল বি১ ও বি২ ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই দুই ধরনের ভিসা ভিজিটর ভিসা হিসেবে পরিচিত। ব্যবসা, চুক্তি আলোচনা কিংবা বিভিন্ন সম্মেলনে অংশ নিতে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে যান, তাঁরা সাধারণত বি১ ভিসা পান। আর ভ্রমণ, বিনোদন বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাঁরা যান, তাঁদের দেওয়া হয় বি২ ভিসা। এসব ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে একটানা ৯০ দিনের বেশি থাকার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা বন্ড নীতি কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে। এরপর কেউ বি১ বা বি২ ভিসার জন্য আবেদন করলে এবং যোগ্য বিবেচিত হলে তাঁকে জামানত হিসেবে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা দিতে হতে পারে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার অফিসার আবেদনকারীর ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন।

বুধবার দুপুরে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৩১ পয়সা। সে হিসাবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার জামানত দিতে হলে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জমা দিতে হবে।

তবে এখানেই আছে স্বস্তির খবর। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য যাঁরা যেতে চান, তাঁদের জন্য কোনো বন্ড দিতে হবে না। স্টেট ডিপার্টমেন্টের স্টাডি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ক্যাটাগরির তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দেওয়া এফ ও এম ভিসা এই ভিসা বন্ড নীতির আওতার বাইরে। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই জামানত প্রযোজ্য নয়।

ভিসা বন্ড নীতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যুক্তি হলো, কিছু দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার হার তুলনামূলক বেশি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ২০২৪ অর্থবছরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই বছরে ৩৮ হাজার ৫৯০ বাংলাদেশি বি১ ও বি২ ভিসাধারীর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার কথা থাকলেও ২ হাজার ১৬২ জনের প্রস্থানের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে ওভারস্টের হার দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

এর আগের অর্থবছরেও ব্যবসা ও ভ্রমণ ভিসাধারীদের মধ্যে ওভারস্টের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই বাংলাদেশকে ভিসা বন্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বন্ড জমা দিলেই ভিসা পাওয়া যাবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। যদি ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়, তাহলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং আবেদনকারী অর্থ ফেরত পাবেন। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশ ছাড়া কেউ ফি জমা দিলে সেই অর্থ ফেরতযোগ্য হবে না।

ভিসা বন্ডের আওতায় পড়া আবেদনকারীদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ফর্ম আই-৩৫২ জমা দিতে হবে। বন্ডের অর্থ জমা দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ট্রেজারির অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পে ডট জিওভি ব্যবহার করে।

এ ছাড়া বন্ড দিয়ে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে পারবেন কেবল তিনটি নির্ধারিত বিমানবন্দর দিয়ে। এগুলো হলো বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওয়াশিংটনের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নির্ধারিত এসব বিমানবন্দরের বাইরে অন্য কোনো পথ ব্যবহার করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ যেমন থাকছে, তেমনি বাড়ছে দায়বদ্ধতা ও আর্থিক চাপ। শিক্ষার্থীরা যেখানে স্বস্তিতে থাকছেন, সেখানে ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদনকারীদের প্রস্তুত থাকতে হবে নতুন বাস্তবতার জন্য।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার