বিজ্ঞাপন
মহার্ঘ ভাতা নিয়ে যে সিদ্ধান্ত হলো: কোন গ্রেডে কত?
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ এএম
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা নতুন জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা থেকে আপাতত সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে নতুন পে স্কেল চালু না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।
সরকারি সূত্র জানায়, বড় ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বর্তমান সময়কে উপযুক্ত মনে করছে না অন্তর্বর্তী সরকার। এ কারণে বেতন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা বাড়লেও চলমান ভাতা ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
নতুন পে স্কেল স্থগিত থাকলেও জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। বরং কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তিসংগত নয়।
অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা দিতে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বাজেট আলোচনায় আসে। বাজেটের প্রাথমিক প্রস্তাবে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে বিশতম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
পরবর্তীতে সরকার নতুন পে স্কেল প্রণয়নের দিকে গুরুত্ব দিলেও সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রস্তাব অনুসারেই মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। ফলে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মীরা ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে বিশতম গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এর আগে সপ্তম বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০০৯ সালের ১ জুলাই।
সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার রীতি থাকলেও অষ্টম পে স্কেলের পর নয় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এতে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ গ্রেডের সর্বশেষ ধাপে পৌঁছে গেছেন।
এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৫ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনাও চালু রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে প্রায় সম্পন্ন হবে।
বিজ্ঞাপন