Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

তুরস্কের নাগরিকত্ব নিয়েও নির্বাচনী মাঠে কায়কোবাদ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩০ এএম

তুরস্কের নাগরিকত্ব নিয়েও নির্বাচনী মাঠে কায়কোবাদ

বিজ্ঞাপন

তফসিল ঘোষণার পর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল, দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রার্থী আলোচনায় এসেছেন ঋণ খেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ নিয়ে। যার মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। কুমিল্লার মুরাদনগর নিয়ে গঠিত আসনটিতে এই প্রার্থী কিভাবে বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়েও নির্বাচন করছেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মুরাদনগরে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কায়কোবাদ তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং দেশটির পাসপোর্টও রয়েছে তার।

কায়কোবাদের তুরস্কের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর 50947890844 এবং পাসপোর্ট নম্বর U27633999। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে কায়কোবাদের জন্মস্থান বাংলাদেশের কুমিল্লায়।

এদিকে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় উল্লেখ করা জন্ম তারিখ এবং স্বাক্ষর হুবহু মিল রয়েছে। কায়কোবাদের তুরস্কের পাসপোর্টটি ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তৈরি করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০৩২ সাল পর্যন্ত দেখা যায়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশে ফেরা কায়কোবাদ দ্বৈত নাগরিকত্বের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টে তার বিরুদ্ধে ১৯০ কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত একটি মামলা রয়েছে। কাঠামোগতভাবে, তিনি ওই ঋণের গ্যারান্টর ছিলেন বলে দাবি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমিল্লা মুরাদ নগরে স্থানীয় এক ভোটার এনপিবি নিউজকে জানান, কায়কোবাদের বিদেশি নাগরিকত্বের কার্ড ও পাসপোর্টের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে গেছে। এটা নিয়ে একটা গুঞ্জন আছে। কিন্তু অনেকে ভয়ে প্রকাশ করছে না। কিন্তু একজন বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে যদি সে নির্বাচন করে তাহলে নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাজী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি তার উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘কোনো প্রার্থী নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার আবেদন গ্রহণ করবেন না রিটার্নিং অফিসার। এরপর কেউ যদি তার অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেন এবং তা প্রমাণিত হয় তবে তার প্রার্থীতা বাতিল হবে। নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে যথাযথ অভিযোগ দিলে তার প্রার্থীতা বাতিল করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে আমি জানি না। তবে কেউ যদি এমন অভিযোগে অভিযুক্ত থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করেন তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’

উল্লেখ্য, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যদি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করেন তবে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে প্রার্থী হতে বাধা থাকবে না।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার