বিজ্ঞাপন
ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না— বলেছেন জামায়াত আমির
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৫ এএম
বিজ্ঞাপন
জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না বলে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছে। ন্যাশনাল খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি পার্থ দাস এই দাবি করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১০ সদস্যের এই প্রতিনিধিদল। পার্থ দাস ওই প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই তথ্য জানান।
পার্থ দাস বলেন, আজকের এই সুন্দর সুযোগের জন্য আমরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। জামায়াতে ইসলামীর আমির মহোদয়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি যে আশ্বাসগুলো দিয়েছেন, আমি সেগুলো আবার উল্লেখ করতে চাই যা তিনি জাতির উদ্দেশ্যেও বলেছেন। তা হলো— সৃষ্টিকর্তা যদি তাদের দেশ পরিচালনা করার সুযোগ দেন, তবে বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়। আমরা যারা নিজেদের সংখ্যালঘু মনে করি, তিনি বলেছেন যেন আমরা নিজেদের সেই পরিচয় না দিই। বরং আমরা যারা সংখ্যায় কম, তাদের তিনি নিজ সন্তানের মতো আগলে রাখার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি চান এই ভ্রাতৃত্বের সংস্কৃতিই যেন প্রচলিত থাকে।
পার্থ দাসের বক্তব্যের রেশ ধরে তিনি বলেন, তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন— একটি বাগানে যেমন সব রকমের ফুল না থাকলে সৌন্দর্য ফোটে না, ঠিক তেমনি একটি দেশে সব ধর্মের নাগরিক না থাকলে পূর্ণতা আসে না। আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ। আমাদের এখানে আসার প্রধান উদ্দেশ্য হলো এদেশের খ্রিষ্টান নাগরিক হিসেবে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ দেশ চাই এবং শান্তিতে বসবাস করতে চাই।
পরে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিট। তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে তিনটি প্রশ্ন করেছিলেন। যার উত্তর তিনি সঠিকভাবে পেয়েছেন এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, আগামী দিনের প্রত্যাশা এবং আমরা বিশ্বাস করি যে এই উত্তর ঠিক থাকবে। এটা আমরা আশা করি।
ব্রিফিংয়ে পাশে থাকা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের প্রশ্ন ছিল-‘আপনারা যদি ক্ষমতায় যান তাহলে কোন আইনে দেশ চালাবেন?’ এটাই ছিল মূল প্রশ্ন। এটা কি শরীয়াহ আইনে না অমুক মডেল তমুক মডেলে? আমাদের আমিরে জামায়াত তখন বলেছেন, বাংলাদেশে যে বিদ্যমান আইন সে আইনেই বাংলাদেশ চলবে, যেখানে সব ধর্মের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা হবে। এই আইনটাই এখন যথেষ্ট।
পাশে থাকা পার্থ দাশের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, এটাই তো (এভাবেই তো বলেছেন) নাকি? ওই সময় সম্মতিসূচক পার্থ দাস মাথায় সায় দেন।
এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি দেশ, যেখানে আমরা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায় মিলেমিশে বসবাস করছি। আজ আমাদের কার্যালয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এসেছেন এবং তারা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীতি, আদর্শ ও কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন এবং তাদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেছেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সামনে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের ধারাবাহিক মতবিনিময় চলছে।
১১ দলীয় জোট কি থাকবে?
জোটের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আজকে একটা সংবাদ সম্মেলনের জন্য আপনাদেরকে দাওয়াত দিয়েছিলাম দলের পক্ষ থেকে। অনিবার্য কারণবশত এই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যে কারণে স্থগিত করা হয়েছে সেটা নিয়ে লিয়াজো কমিটি বসেছে। আলোচনা চলছে। আমরা আবারও আপনাদের সামনে আসবো এবং আমাদের সর্বশেষ আপডেট আপনাদেরকে জানাবো।
জোট কি আছে, নাকি ভেঙে যাচ্ছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ জোট আছে। এটা অব্যাহত থাকবে। যাদের কথা বললেন আমাদের ভাইয়েরা ব্রিফিং করেছেন তারাও বলেছেন যে আমরা জোটে আছি, জোট অব্যাহত আছে। এটা আমাদেরও কথা যে জোট নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। জোট ঠিক আছে।
বিজ্ঞাপন