Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

রাত ৪টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে কোন দল কত আসন পেল

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪২ এএম

রাত ৪টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে কোন দল কত আসন পেল

বিজ্ঞাপন

দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশে প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা চলেছে ভোটগ্রহণ। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা পর্ব। এরই মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভোট গণনা শেষে আসতে শুরু করেছে ফল। বেসরকারিভাবে অধিকাংশ আসনের ফলাফলও ঘোষণা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৪টা পর্যন্ত এখন পর্যন্ত ২৪৫টি আসনের বেসরকারি ফল এসেছে। 

প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ১৭৬ আসনে জয় পেয়ে গেছেন বিএনপি ও তাদের জোট প্রার্থীরা। অন্যদিকে, ৬৪টি আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। আর ৫টি আসনে জয় জুটেছে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের কপালে।

এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে, বিএনপির নেতৃত্বেই গঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আগামী সরকার। ফলে, প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই সরকারপ্রধান হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াত।

সবশেষ প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আসনটিতে ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট।

এছাড়া, ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। আসনটিতে  ৫৭ হাজার ৯২ ভোট ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট।

ঢাকা-১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হককে হারিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। আসনটিতে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬০১ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮৮৯ ভোট।

ঢাকা-৬ আসনে জয়ের হাসি হেসেছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। এই আসনে ৭৮ হাজার ১৪১ ভোট পেয়েছেন তিনি । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৪৬৫ ভোট।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করেছেন তিনি। এই আসনের মোট ৬২টি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ধানের শীষের প্রার্থী শুরু থেকেই ভোটের দৌড়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। মির্জা ফখরুলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪০২ ভোট। অর্থাৎ মির্জা ফখরুল প্রায় ২৮ হাজার ১৪৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। 

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। আসনটিতে মোট ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১১ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান প্রায় ৯৪ হাজার ৪৪৭টি।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ আসনে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ ভোট।

পটুয়াখালী-৩ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি জোট থেকে ট্রাক প্রতীকে দাঁড়ানো গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ৭৩ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯৫০ ভোট।

৫৬ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জিতেছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি তার দলীয় প্রতীক 'মাথাল'-এ পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৩৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মহসীন ‘দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। আসনটির ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট।

ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষের বিজয় এসেছে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের হাত ধরে। আসনটিতে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি। সবগুলো কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট।

সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনে ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল শেষে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী কামরুজ্জমান কামরুল। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭২ হাজার ৫২৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে কামরুজ্জমান কামরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০৫ ভোট। অন্যদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ১৭৬ ভোট।

এছাড়া, নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। চিরচেনা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকা জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৩০৯ ভোট।

অর্থাৎ, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপিকে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২ ভোটের বিশাল ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।

কিশোরগঞ্জ ৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির আরেক আলোচিত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লার প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৪৬ ভোট। অর্থাৎ, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ৭৬ হাজার ৯০৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী ফজলুর রহমান। 

এছাড়া, মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনেই বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী এ কে এম ফখরুদ্দীন রাজী পেয়েছেন ১ লাখ এক হাজার ৫৬৮ ভোট। ৬৫ হাজার ৯৯৪ ভোটের ব্যবধানে জয় পান আব্দুল্লাহ।

মুন্সীগঞ্জ-২ (টংগিবাড়ী-লৌহজং) আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম পান ৫৮ হাজার ৫৭৩ ভোট। এখানে ব্যবধান ৬২ হাজার ৫৮১ ভোটের।

মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত মো. কামরুজ্জামান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন পান ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট। এই আসনে জয়ী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৩৫ হাজার ৭৫৫টি।

বিএনপি জয় পেয়েছে লালমনিরহাটের ৩ আসনেও। এর মধ্যে লালমনিরহাট-১ (হাতিবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে বিএনপির হাসান রাজিব প্রধান ধানের শীষ  প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ ভোটে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম রাজু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৭২ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহমেদ ঘোড়া প্রতীকে ৭ হাজার ৯৫৯, জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙ্গা লাঙ্গল প্রতীকে ৫ হাজার ১৫৮, লেবার পার্টির শুভ আহম্মেদ ১৪৩, স্বতন্ত্র রেজাউল বারি সরকার মোটরসাইকেল প্রতীকে ৮০৪, স্বতন্ত্র রেদাউনুল হক তালা প্রতীকে ১৯১, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুল কবীর শাহরীয়ার ৪ হাজার ৪৪২, জাসদের হাবিব মোহাম্মদ ফারুক ২২৬ ভোট পেয়েছেন।

লালমনিরহাট-২ (কালিগঞ্জ-আদিতমারী) আসনে বিএনপির রোকনউদ্দিন বাবুল ধানের শীষ প্রতীকে  ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৬ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের ফিরোজ হায়দার লাভলু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৫২ পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মমতাজ উদ্দিন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৩ হাজার ৪৯৯, ইসলামী আন্দোলনের মাহফুজুর রহমান  হাতপাখা প্রতীকে ৬ হাজার ৯৩৯ ভোট, জনতার দলের ব্রিগেডিয়ার (অব.) শামিম কামাল কলম প্রতীকে ২০ হাজার ১২৭ ভোট পেয়েছেন।

লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ধানের শীষ প্রতীকে  ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আবু তাহের ৫৬ হাজার ২৪৪ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া গণসংহতি আন্দোলনের দ্বীপক কুমার ৪২৯, সিপিবির মধুসূধন রায় কাস্তে প্রতীকে ৮৬৯, ইসলামী আন্দোলনের আমিনুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ২৮৩, জাতীয় পার্টির জাহিদ হাসান লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ১৫০ ভোট পেয়েছেন।

জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির হয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন মো: আব্দুল বারী। আসনটির ১০৪ কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১২৮ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লার প্রার্থী রাশেদুল আলম সবুজ পেয়েছেন ৯১ হাজার ১২ ভোট। 

এদিকে সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নাছির চৌধুরীর কাছে হার মেনে নিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।

অন্যদিকে আলোচিত কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এই আসনের ১১৬টি কেন্দ্রের সবকটিতেই আধিপত্য দেখা গেছে শাপলা কলি প্রতীকের এই প্রার্থীর।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, হাসনাত আবদুল্লাহ মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীমউদ্দীন পেয়েছেন মাত্র ২৬ হাজার ভোট।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ৯৮ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে জিতেছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের শহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৯১ ভোট। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা হাতপাখার প্রার্থী আবদুল মালেক পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৯ ভোট।

কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চর রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মোট ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফিজুর রহমান ৯ হাজার ৪৪৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২১ হাজার।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা মেহেরপুরের আসন দুইটি। সেখানে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত ও জোটপ্রার্থীরা। এর মধ্যে মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসনে মোট ১২৩টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই আসনে ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে যে, জামায়াত সমর্থিত জোটপ্রার্থী তাজউদ্দীন খান তার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে ১ লাখ ২২ হাজার ৮২৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২২৪ ভোট।

আর মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে ৯৪ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী নাজমুল হুদা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৮৯ ভোট। এই আসনে দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৭৯।

এছাড়া, সাতক্ষীরা জেলার নির্বাচনি লড়াইয়ে বড় জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীরা।

এর মধ্যে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ। ১৬৮টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে (পোস্টাল ভোটসহ) তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৫ ভোট। ইজ্জত উল্লাহ ২৩ হাজার ৭৭৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে গণভোট হ্যাঁ পড়েছে ২  লাখ ২৮ হাজার ৪০৪। না ভোট ১ লাখ ২১ হাজার ২৫৬। ৭৫.৬৪ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক। ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৩ ভোট। আব্দুল খালেক ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে ধানের শীষকে পেছনে ফেলে মূল লড়াইয়ে উঠে এসেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম। তবে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছেন জামায়াতের রবিউল বাসার। ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ভোট। ৭৮ হাজার ৮৪৪  ভোটের ব্যবধানে রবিউল বাসার জয়ী হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন ধানের শীষে ৫৬ হাজার ৮১৯ পান। এখানে গণভোট হ্যাঁ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৫, না ভোট ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৩। ৭০.৯৯ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৬ ভোট। ২১ হাজার ৪৪৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন নজরুল ইসলাম। গণভোট হ্যাঁ ভোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৪১, না ভোট ৬০ হাজার ৭৭৯ ভোট। ৬৭.৭৬ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশাল বিজয় অর্জন করেছে নীলফামারীতেও। এ জেলার ৪ আসনেই জয়ের দেখা পেয়েছে দলটি। এর মধ্যে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ১৫৪ কেন্দ্রে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সাত্তার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের খেজুর গাছের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনে ১৩৪ কেন্দ্রে ১ লাখ ৪৫হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী আলফারুক আব্দুল লতিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট।

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে ১০৫ কেন্দ্রে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ১০২ ভোট।

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ১৬৯ কেন্দ্রে ১ লাখ ২৪হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট। 

উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় আজ ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার