Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

রাজশাহী বিভাগে দুই মন্ত্রী, চার প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

রাজশাহী বিভাগে দুই মন্ত্রী, চার প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী বিভাগের ৩৯ সংসদীয় আসনের ২৮টিতে জিতেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বিভাগের রাজশাহী ও বগুড়া বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। বিভাগের বাকি ১১টি আসনে জয় পায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এরপরও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার রাজশাহী বিভাগের মানুষকে হতাশ করেননি।

গুরুত্বপূর্ণ এ বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন দুইজন পূর্ণমন্ত্রী, চার প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় একজন উপদেষ্টা।

তবে যেসব জেলায় বিএনপির প্রার্থীরা জয় পাননি সেসব জেলা থেকে মন্ত্রিপরিষদে কাউকে নেওয়া হয়নি। এরপরও বিভাগের অধিকাংশ জেলায় নবনিযুক্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও  উপদেষ্টাদের বরণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

নবনিযুক্ত ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এ প্রসঙ্গে বলেন, রাজশাহীসহ বিভাগের জেলাগুলোর উন্নয়নে আমাদের নজর থাকবে। কোনো জেলা থেকে মন্ত্রী না হওয়া মানে সেই জেলার উন্নয়নে অবহেলা হবে- এমনটা ভাবার কারণ নেই। ওই সব জেলার মানুষের হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে দেশের সব জেলা অঞ্চল এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এবারও হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী দল বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রিপরিষদে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ সদর-কামারখন্দ) আসন থেকে বিজয়ী ইকবাল হাসান খান মাহমদু টুকু। তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারেও টুকু একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। টুকু পূর্ণমন্ত্রী হওয়ায় সিরাজগঞ্জে আনন্দের জোয়ার বইছে।

এদিকে প্রায় ৪৬ বছর পর রাজশাহী মহানগরী পেল একজন পূর্ণমন্ত্রী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে বিজয়ী মিজানুর রহমান মিনুকে ভূমিমন্ত্রী করা হয়েছে। এর আগে ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবার দল হিসেবে প্রথমবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হলে রাজশাহী সদর আসন থেকে এমরান আলী সরকারকে ত্রাণ মন্ত্রী করা হয়েছিল।

এরপর ১৯৯১ সালে রাজশাহী সদর থেকে জিতে বিএনপি সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী হন প্রয়াত অ্যাডভোকেট কবীর হোসেন। এরপর দীর্ঘ বছরেও রাজশাহী সদর থেকে নির্বাচিত কাউকে পরবর্তী কোনো সরকারেই মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। রাজশাহীর মানুষের মাঝে ছিল হতাশা।

অন্যদিকে রাজশাহী সদর থেকে মিনুকে পূর্ণমন্ত্রী করায় আনন্দের জোয়ার বইছে নগরীতে।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই মিনু বলেছেন, রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়নে তিনি সর্বাত্মক শক্তি দিয়ে কাজ করবেন।

জানা গেছে, মিজানুর রহমান মিনু ১৯৯০ সালে রাজশাহী সিটির মনোনীত মেয়র এবং পরবর্তীতে আরও দুইবার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে একটানা ১৭ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। মেয়র থাকাকালে ২০০১ সালে রাজশাহী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মিনু রাজশাহীর দলমত নির্বিশেষ সব শ্রেণির-পেশার মানুষের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতোমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

এদিকে রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, জয়পুরহাট, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ থেকে একজন করে মোট চারজনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে নাটোরের চারটি আসনেই জয় পায় বিএনপির প্রার্থীরা।

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত ফারজানা শারমিন পুতুলকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুতুল উত্তরাঞ্চলের ৭২ আসনের মধ্যে একমাত্র নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য। পুতুলের বাবা প্রয়াত ফজলুর রহমান পটল নাটোর-১ আসনে পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপির দুই সরকারে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। পুতুল পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক। পুতুলকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. এমএ মুহিত প্রথমবার নির্বাচনে জিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মুহিত পূর্ণমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ খান টুকুর আপন ভাগ্নে। মুহিত এনসিপির সাইফ মুস্তাফিজকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন।

বগুড়ার শিবগঞ্জ (বগুড়া-২) আসনে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন মীর শাহে আলম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মীর শাহে আলম অর্ধলাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। মীর শাহে আলমকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের অধীন জয়পুরহাট জেলার দুটি আসনের মধ্যে জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসন থেকে জিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুল বারী।  মোহাম্মদ আব্দুল বারী প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক কাজে বেশ অভিজ্ঞ। এর আগে তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথমবার নির্বাচন করে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। জয়পুরহাটের দুটি আসনের মধ্যে একটি আসনে জিতেছেন জামায়াতে ইসলামির মনোনীত প্রার্থী।

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়েছেন রাজশাহীর সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাতিজা রেহান আসিফ আসাদ। তার বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। রেহানের বাবা প্রয়াত এম আসাদুজ্জামান ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান। রেহান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক সেলের অন্যতম সদস্য।

রেহানের আপন চাচা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন রাজশাহী-১ ( গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের অধ্যাপক মজিবুর রহমানের কাছে পরাজিত হন।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নওগাঁ জেলা থেকে কাউকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি।

এবার রাজশাহী বিভাগ থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা মিলে মোট সাতজনকে নিয়োগ দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ আনন্দিত বলে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এলাকায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থাকলে এলাকার মানুষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়ন ঘটবে।

বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে সাতজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত। তিনি বলেন, রাজশাহী বিভাগ থেকে দায়িত্ব পাওয়া এই সাতজন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা। তারা যেন অবহেলিত রাজশাহী বিভাগের উন্নয়নে মনোযোগ দেন সেটা জনগণের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও প্রত্যাশা করছেন। দলীয়ভাবে এসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে সহযোগিতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার