বিজ্ঞাপন
এবারও চমক দেখাবেন নকলমুক্ত পরীক্ষার কারিগর এহসানুল হক মিলন
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারে আলোচিত নাম ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। এবার হলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে ১১ দলীয় জোটের প্রাথীকে হারিয়েছেন। নির্বাচনকালীন তার গণসংযোগ ও প্রচারণাও ছিল গতানুগতিকের কিছুটা বাইরে।
তার সব কর্মসূচিতে কচুয়ার নারী পুরুষ, শিশুদের ঢল দেখা গেছে। স্বভাবসুলভ সুন্দর কথা ও ব্যবহারে জয় করেছেন এলাকার সব শ্রেণির মানুষের মন।
এহসানুল হক মিলন শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন, তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের এক রূপকার। তিনি ছিলেন পরীক্ষার হলে নকলকারী ও নকলের সহায়তাকারীদের আতঙ্ক।
এহসানুল হক মিলন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজ (তৎকালীন ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি ফজলুল হক হলের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮২ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তিনি ব্রুকলিন কলেজ ও বরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে অধ্যাপনাও করেন।
২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল- ‘বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এর ভূমিকা’।
এহসানুল হক মিলনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ছাত্রাবস্থায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সেখানে বিএনপিকে সংগঠিত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবার কচুয়া (চাঁদপুর-১) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তার রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় শুরু হয় ২০০১ সালে, যখন তিনি দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন এবং বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।
তার দূরদর্শী নেতৃত্বে কচুয়া অবহেলিত জনপদ থেকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। ২০২৪-২০২৫ পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাকে পুনরায় জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন (২০০১-২০০৬) ড. মিলন বাংলাদেশের শিক্ষা খাতকে ডিজিটালাইজেশন এবং আধুনিকায়নের পথে নিয়ে যান। তার গৃহীত কিছু পদক্ষেপ আজও স্মরণীয়।
তিনি সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন। সারাদেশে স্কুল-কলেজের নতুন ভবন নির্মাণ এবং আধুনিক ল্যাব স্থাপনে তার অবদান অনস্বীকার্য।শুধু তাই নয়,নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি এবং ঝরে পড়া রোধে তিনি কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাদেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় ‘নকল’ যখন একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছিল, তখন ড. এহসানুল হক মিলন ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি নিজে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করতেন এবং নকলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছিলেন।
তিনি ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, নকল করে পাস করা জাতির জন্যে অভিশাপ। তার কঠোর তদারকির ফলে ২০০১ পরবর্তী কয়েক বছরে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরে আসে এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন পেতে শুরু করে। তাকে আজও মানুষ ‘নকল প্রতিরোধ আন্দোলনের নায়ক’ হিসেবে চেনে।
২০২৬ সালের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর জনমনে তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে যেন এহসানুল হক মিলনকে আবারো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সেটিই হয়েছে। পূর্ববর্তী মেয়াদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার সাফল্য আকাশচুম্বী। বর্তমান বিশৃঙ্খল শিক্ষা ব্যবস্থায় তার মতো অভিজ্ঞ নেতার বিকল্প নেই।
প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে চলমান বিতর্ক নিরসনে পূর্বের ন্যায আগামীতেও চমক দেখাবেন এমনটি মনে করেন সচেতন মানুষ ।
তারা মনে করছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যখন কারিকুলাম বিতর্ক এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ড. মিলনের প্রয়োজনীয়তা জাতীয়ভাবে অনুভূত হচ্ছে।
এহসানুল হক মিলন নিজে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যাপনা করেছেন এবং মালয়েশিয়া থেকে পিএইচডি করেছেন। বৈশ্বিক শিক্ষার সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতির সমন্বয় করার সক্ষমতা তার রয়েছে।
তিনি মনে করেন, কেবল জিপিএ-৫ পাওয়াই বড় কথা নয়, বরং ছাত্ররা বাস্তবে কী শিখছে তা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ‘ক্রিয়েটিভ মেথড’ বা সৃজনশীল পদ্ধতির অপব্যবহার রোধে কঠোর।
শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করে শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, ডা. আ ন ম এহসানুল হক মিলন কচুয়ার মাটি ও মানুষের নেতা থেকে আজ জাতীয় পর্যায়ের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তার শিক্ষা-দীক্ষা, বিদেশের অভিজ্ঞতা এবং স্বদেশের প্রতি টান তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে এটা নি:সন্দেহে বলা চলে।
বিজ্ঞাপন