বিজ্ঞাপন
ডাকসুতে হঠাৎ অন্তর্কোন্দল, সাদিক কায়েমদের দিকে জুমার তীর
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৭ এএম
বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে ডাকসু নেতাদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ডাকসুর শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতা এবং নির্দিষ্ট একটি পক্ষের অনুসারীদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন নারী সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্য। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা সরাসরি ভিপি সাদিক কায়েম ও তার অনুসারীদের দিকে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে। একুশের প্রথম প্রহরে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং এজিএস মহিউদ্দিন খানদের নেতৃত্বে ডাকসুর একটি অংশ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে ডাকসুর পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রতিনিধিদের বদলে ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ নারী সদস্য ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্বমিত্র চাকমা, হেমা চাকমা এবং উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ কমিটির বড় একটি অংশ এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা থেকে বাদ পড়ে যান।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা ফেসবুকে বিদ্রূপাত্মক পোস্টে জানান, তারা কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও বিটিভির লাইভ দেখে জানতে পেরেছেন যে ডাকসু ফুল দিতে গেছে। তিনি অনেকটা ক্ষোভের সাথেই লেখেন, আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!
অন্যদিকে, ফাতিমা তাসনিম জুমা সরাসরি ডাকসুর শীর্ষ তিন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন। জুমা জানান, শহীদ মিনারে যাওয়ার সময়সূচী নিয়ে বারবার গ্রুপে প্রশ্ন করলেও তাকে কোনো সদুত্তর দেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে জানানো হয়েছিল যে কেবল সিনেট সদস্যরা রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে যাবেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সিলেক্টিভ পাস একটি দলের ইউনিয়ন লেভেলের কর্মীদেরও আছে, কিন্তু ডাকসুর সদস্যদের নেই কেন? এটা কেমন গাফলতি আমি জানি না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রভাতফেরীর চিঠির তথ্যও ভিপি-জিএস-এজিএস গোপন করেছেন এবং সাধারণ সদস্যদের জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি।
জুমার মতে, এই পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে খুব সহজেই এড়ানো যেত। তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর অভিযোগ তুলে বলেন, ভিপি-জিএস এবং এজিএস পুরো বিষয়টি শিক্ষার্থীদের আমানত হিসেবে না দেখে নিজেদের সুবিধামতো পরিচালনা করছেন।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীরা যখন তাদের কাজের জবাব চায়, তখন সম্পাদক হিসেবে তাদের উত্তর দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন