Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের নেপথ্য তথ্য

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৫ এএম

রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের নেপথ্য তথ্য

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগষ্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, এ নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ছাত্রনেতাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়। তবে বিদেশ থেকে ফিরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রাক্কালে উপদেষ্টা পরিষদের খসড়া তালিকায় কাটছাঁট করে নিজের পছন্দের কয়েকজনের নাম যোগ করেন তিনি। 

সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়ে ছাত্রনেতারা ছিলেন একেবারেই অনড়। ছাত্রদের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল। তবে সে সময় তিনি ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। সেখানে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার চলার কারণে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না।

ড. ইউনূসের দেশে ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও পিছিয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় আলোচনায় আসে, অস্থায়ীভাবে অন্য কাউকে প্রধান উপদেষ্টা করা যায় কি না। তবে এমন প্রস্তাবে ছাত্রনেতারা আপত্তি জানান এবং স্পষ্টভাবে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা পদে ড. ইউনূস ছাড়া অন্য কোনো নাম তারা মানবেন না।

রাষ্ট্রপতি জানান, ছাত্রনেতাদের এই অবস্থানের প্রতি রাজনৈতিক নেতারাও সমর্থন দেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, ছাত্রদের দাবিকেই সম্মান জানানো হবে এবং তারা যাকে চাইছে, তাকেই প্রধান উপদেষ্টা করা হবে। 

সরকার গঠনে বিলম্বের প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা পদে বিকল্প কিছু নাম আলোচনায় এলেও তা চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়নি। রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ড. ইউনূসের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় কয়েকজনের নাম ভেসে উঠেছিল। এর মধ্যে একজন ছিলেন সালেহ উদ্দিন আহমেদ, যিনি পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান।

তবে ছাত্রনেতারা ড. ইউনূসের ব্যাপারে তাদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি। তারা অপেক্ষা করার পক্ষেই ছিলেন বলে জানান রাষ্ট্রপতি।

ড. ইউনূসের দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তিনি ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের লাউঞ্জে স্বশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপতি জানান, আগে থেকেই বঙ্গভবনে তিন বাহিনী প্রধান ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত ছিল। সেখান থেকে ড. ইউনূস কিছু নাম বাদ দেন এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী কয়েকজনের নাম যুক্ত করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

খসড়া তালিকা থেকে কারা বাদ পড়েছিলেন-এ প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ড. ইউনূস নিজ হাতে তালিকায় সংশোধন এনেছেন। বিশেষ করে এনজিও–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তিনি নিজেই নাম যুক্ত করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক, স্বাস্থ্য বিষয়ক ও ধর্ম বিষয়ক দায়িত্বে থাকা কয়েকটি পদেও পরিবর্তন আনা হয় তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার