বিজ্ঞাপন
মানি এসকর্ট সেবা কি, যে কারণে এই সেবার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না মানুষ
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৬০ ভরি সোনা ও এক লাখ টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা। তিনটি মোটরসাইকেলে সাতজন এসে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে সোনা ও টাকা লুট করে। কোনো ধরনের পুলিশি সহায়তা ছাড়া এত অধিক পরিমাণের স্বর্ণালংকার বহন করার সুযোগ নেয় ডাকাতরা।
গত বছরের ১৯ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর রামপুরা থেকে এক ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট হয়। বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসে করে বাসায় যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করে অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালংকারসহ ট্র্যাভেল ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
রাজধানীতে এমন ঘটনা মাঝে-মধ্যেই ঘটছে। মোটা অঙ্কের টাকা, স্বর্ণালংকার অথবা মূল্যবান মালামাল পরিবহণে ছিনতাই-ডাকাতির আতঙ্কে থাকেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে এই আতঙ্ক বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঈদের সময় টাকা বা মূল্যবান জিনিস পরিবহণ অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাসা বা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথেই ছিনতাই ডাকাতির কবলে পড়েন অনেকে। নগরবাসীর এসব সমস্যা নিরসনে সারা বছর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে দেওয়া হয় মানি এসকর্ট সেবা। এ লক্ষ্যে নানা প্রচারণাও চালায় ডিএমপি। বিভিন্ন ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারের সামনে পুলিশের এ সেবা নেওয়ার ফোন নম্বর টানানো থাকে। তবে এই সেবাপ্রত্যাশীদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ব্যক্তিপর্যায়ে যা শূন্যের কোঠায়।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্র জানায়, বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্ট কোম্পানি সীমিত আকারে মানি এসকর্ট সেবা নিয়ে থাকে। তবে ব্যক্তিপর্যায়ে এ সংখ্যা একে বারেই নগণ্য।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এসএন মো. নজরুল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘শুধু টাকা নয়-স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান মালামাল পরিবহণের ক্ষেত্রে আমরা বিনা খরচে এসকর্ট সেবা দিয়ে থাকি। অনেক সময় ঈদের ছুটিতে বিয়ের জন্য স্বর্ণের গহনা কিনে কেউ যদি বাসায় নিরাপদে নিয়ে যেতে চান সেক্ষেত্রে আমাদের জানালে স্থানীয় থানা থেকে এসকর্ট সেবা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ডিএমপির মানি এসকর্ট সেবার বিষয়ে মিডিয়াতেও বলা হয়েছে। কিন্তু এ সেবা নিতে মানুষ কম সাড়া দিচ্ছে। আমরা নগরবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি, যে কোনো মূল্যবান জিনিস বা টাকা-পয়সা পরিবহণের সময় যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে সেবাটি নিতে পারেন।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ী, ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মোটা অঙ্কের টাকা বহন করতে গিয়ে প্রায়ই ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুনের ঘটনাও ঘটে। অথচ স্বেচ্ছায় পুলিশের মানি এসকর্ট সেবা নিলে রাস্তাঘাটে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটত না।’
একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারের সামনে মানি এসকর্ট সেবা নিতে পুলিশের ফোন নম্বর দেওয়া থাকে। কিন্তু গ্রাহকরা পুলিশের এ সেবাটি নিতে আগ্রহী নন। অনেকে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা তুলে একাই পরিবহণ করছেন।
একটি ডেভেলপার কোম্পানির এমডি যুগান্তরকে জানান, তিনি কখনো মানি এসকর্ট সেবা নেননি। এর কারণ হিসাবে তিনি জানান, বড় অঙ্কের টাকা পরিবহণে পুলিশের সহায়তা নিলে নানা প্রশ্নের মুখে পড়ার শঙ্কা থাকে। মূলত আস্থার সংকটের কারণে তিনি মানি এসকর্ট সেবা নেন না।
যেভাবে নেবেন মানি এসকর্ট সেবা : ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, যারা মানি এসকর্ট সেবা নিতে চান তাদের ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি আবেদন করতে হবে। ওই আবেদনে উল্লেখ করতে হবে-কোন জায়গা থেকে কোথায় যেতে চান। আবেদনটি গ্রহণ করে পরে পুলিশের সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। তারা দ্রুত সময়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।
তবে ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে যেতে চাইলে ঢাকার একটি এসকর্ট এবং ঢাকার বাইরে আলাদা একটি এসকর্ট নিতে হবে। সাধারণ ভাবে সেবাটি নিতে অন্তত দুই দিন আগে ডিএমপি সদর দপ্তরে আবেদন করতে হয়। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় এক দিনের মধ্যেই সেবাটি পাওয়া সম্ভব।
ডিএমপির ওয়েবসাইটে মানি এসকর্ট বিষয়ে বলা হয়েছে, নগরবাসীর আর্থিক লেনদেন ও নগদ অর্থের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের সব থানা চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরীতে মানি এসকর্ট সহায়তা দিয়ে থাকে।
থানার পাশাপাশি রমনা, মতিঝিল, ওয়ারী ও লালবাগ বিভাগে সহায়তা প্রত্যাশী সংস্থা/ব্যক্তিকে মানি এসকর্ট সহায়তা দেওয়ার জন্য আব্দুল গণি রোডের পুলিশ কন্ট্রোলরুমে পাঁচটি টিম এবং মিরপুর, গুলশান, উত্তরা ও তেজগাঁও বিভাগে অনুরূপ সহায়তা দেওয়ার জন্য মিরপুর পুলিশ কন্ট্রোলরুমে (পিওএম পুলিশ লাইনস) পাঁচটি টিম সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রমজান ও ঈদে টাকা পরিবহণে এসকর্ট সেবা দিচ্ছে পুলিশ : শনিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার পরিবহণে ডিএমপির মানি এসকর্ট সার্ভিস জন্য যোগাযোগ করতে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের দুটি ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো-০১৩২০-০৩৭৮৪৫ ও ০১৩২০-০৩৭৮৪৬। এর আগে, ২ মার্চ ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থ ও বিভিন্ন দ্রব্যের লেনদেন ও স্থানান্তর বাড়বে। কোনো ব্যক্তি, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বেশি পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান দ্রব্য স্থানান্তরের জন্য পুলিশের সহায়তা প্রয়োজন মনে করলে তাদের ঢাকা মহানগর পুলিশ এসকর্ট সেবা দেবে। পুলিশের এসকর্ট সেবাপ্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যানবাহণের সংস্থান করতে হবে। সেবাপ্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট থানা অথবা পুলিশ কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কন্ট্রোলরুমের নম্বরগুলো হলো ২২৩৩৮১১৮৮, ০২৪৭১১৯৯৮৮, ০২৯৬১৯৯৯৯, ০১৩২০-০৩৭৮৪৫, ০১৩২০-০৩৭৮৪৬। এ ছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন