বিজ্ঞাপন
৬ নারীর সঙ্গে পর্ন ভিডিও করেন ইউএনও আলাউদ্দিন, যেভাবে ফাঁস
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
৩৬তম বিসিএস কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) তাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি করা হয়েছে। অবশ্য সোমবার (১৬ মার্চ) ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই গা ঢাকা দেন আলাউদ্দিন। এর আগে তিনি দাবি করেন, তার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এআই দিয়ে ওই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।
খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেল আরও ভিডিও
আলাউদ্দিনের দাবির সত্যতা খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে একজন বিসিএস কর্মকর্তার অন্ধকার এক জগতের খোঁজ। এমন ১০টি ভিডিও, যেখানে অন্তত ছয় নারীর সঙ্গে আলাউদ্দিনকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে।
এশিয়া পোস্টের ফ্যাক্টচেকিং টিম ভিডিওগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছে, সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা নয়, প্রতিটি ভিডিও আসল। বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, ভিডিওগুলো গোপনে কিংবা আলাউদ্দিনের অজ্ঞাতসারে ধারণ করা হয়নি। তিনি নিজেই সচেতনভাবে এসব ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন নারীর নামে সেসব ভিডিও সংরক্ষণ করে রাখেন।
বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তারা জানান, ভিডিওর নামকরণের ধরন দেখে ধারণা করা যায়—বিসিএস কর্মকর্তা আলাউদ্দিন পরিকল্পিতভাবেই এসব ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণ করেছেন। কী উদ্দেশ্যে তিনি এ কাজ করেছেন তা বের করা জরুরি। পর্ন ভিডিওর আদলে নিজের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের এসব ভিডিও নিজেই ধারণ করার বিষয়টি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তিনি পর্ন ভিডিও তৈরির কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত। একইসঙ্গে ভিডিওতে যেসব নারীকে আলাউদ্দিনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে, তারা কোন প্রেক্ষাপটে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন কিংবা কোনোভাবে ফাঁদে ফেলে তাদের এ কাজে বাধ্য করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া জরুরি।
ভিডিও ভাইরাল হলো যেভাবে
হাতিয়ার ইউএনও হিসেবে পদায়নের আগে আলাউদ্দিন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও শাল্লা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভিডিওগুলো সেই সময়কার বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এরমধ্যে একটি ভিডিও শাল্লা উপজেলার ডাকবাংলোর একটি কক্ষে ধারণ করা হয়েছে বলেও দাবি সূত্রের।
সূত্র বলছে, সুনামগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় অফিশিয়াল ক্যামেরা দিয়ে এসব ভিডিও ধারণ করেছিলেন আলাউদ্দিন। পরে কোনো একটি কাজের জন্য ওই ক্যামেরাটি তিনি অধীনস্থ কর্মচারীর কাছে দেন। তখন ওই কর্মচারী ভিডিওগুলোর সন্ধান পেয়ে নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে তিনিই ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ওই কর্মচারী কে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন আইডি থেকে ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এমনকি ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমেও আলাউদ্দিনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জের স্থানীয় একজন সাংবাদিক ফেসবুকে প্রথম একটি ভিডিওর একাংশ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ওই খণ্ডিত ভিডিও বিভিন্ন আইডি থেকে ভাইরাল হয়। পরবর্তীতে ওই সাংবাদিক আরও দুটি ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন।
ভিডিও প্রাপ্তি ও প্রকাশের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলাউদ্দিনের অধীনস্থ একজন কর্মচারীর মাধ্যমে ওই ভিডিও তার হাতে এসেছে। এমন বিকৃত মানসিকতার একজন মানুষ কীভাবে সরকারের দায়িত্বশীল একটি পদে থাকতে পারেন! সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই তিনি এ ভিডিও সামনে এনেছেন।
প্রথম ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সকালে হাতিয়া উপজেলা পরিষদে নিজ কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন আলাউদ্দিন। তৎক্ষণাৎ ছুটির আবেদন জমা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
মোবাইল ফোনে সেদিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করতে কে বা কারা এসব এআই দিয়ে তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মঙ্গলবার সকালে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যম সূত্রে জেনেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আলাউদ্দিনকে হাতিয়ার ইউএনও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মু. তানভীর হাসান রুমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রজ্ঞাপনে তাকে ওএসডি করার কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রাথমিক তদন্তে ভিডিওর সত্যতা পাওয়ায় আলাউদ্দিনকে ওএসডি করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপন জারির পর এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আলাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন