Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

আয়নাঘরের রূপকার সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদের যত অপকর্ম

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

আয়নাঘরের রূপকার সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদের যত অপকর্ম

বিজ্ঞাপন

এক-এগারো পরবর্তী সময় থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল—দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে গুম, নির্যাতন, নজরদারি ও আর্থিক অনিয়মসহ নানা গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সর্বশেষ গ্রেফতারের পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ তালিকা।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর পল্লবী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আয়নাঘরের নেপথ্যের কারিগর

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শেখ মামুন খালেদকে বহুল সমালোচিত ‘আয়নাঘর’-এর রূপকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার সময়েই গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন করে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের ধরে এনে নির্যাতন ও গুমের সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক থাকাকালে তিনি ব্যাপক ফোনে আড়ি পাতা, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলো ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করার অভিযোগে অভিযুক্ত।

এক-এগারো থেকে শুরু

২০০৭ সালের এক-এগারোর সময় সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের ফোর্সেস সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এফএসআইবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

বিশেষ করে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন সূত্রে।

রাজনৈতিক ও আলোচিত ঘটনাগুলো

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসা থেকে উচ্ছেদের ঘটনাতেও তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালের ওই অভিযানে ডিজিএফআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম গুমের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে গুম হওয়া চৌধুরী আলম আজও নিখোঁজ।

ব্যবসায়ী জিম্মি ও নজরদারি

সূত্র বলছে, তার সময় ব্যাপকভাবে ফোনে আড়ি পাতা হতো। রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ড করে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজানোর অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।

আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেনা কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন এবং এর একটি অংশ বিদেশে পাচার করেন।

তার ও তার স্ত্রী নিগার সুলতানা খালেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে, এখনো মামলা দায়ের হয়নি।

দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকলেও দীর্ঘ সময় তিনি রাজধানীর পল্লবীর নিজ বাসায় নির্বিঘ্নে অবস্থান করছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এক-এগারো এবং পরবর্তী সময়ের বহু আলোচিত গুম, নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা নতুন করে সামনে আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার