Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

চাঁদা না পেয়ে কলেজে ঢুকে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

চাঁদা না পেয়ে কলেজে ঢুকে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন  বিএনপি নেতা

বিজ্ঞাপন

রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ কলেজ শিক্ষকদের। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচজন। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। এর মধ্যেই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। বিশেষ করে কলেজের আগের অধ্যক্ষের সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চান বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছুক্ষণ পর অধ্যক্ষসহ আরও কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালানো হয়। ব্যাপক ভাঙচুরও করা হয় অফিস কক্ষে।

হামলায় আহত হয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী। এর মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে জোনতে চাইলে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, “বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা হিসাব চাইতেন।”

তিনি জানান, চাঁদা দাবিই ছিল মূল বিষয়। এসময় প্রতিবাদ করায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন।

অপরদিকে বিএনপি নেতা আকবর আলী দাবি করেন, কলেজের আগের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির হিসাব চাওয়ায় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রথমে তাদের ওপর হামলা করেন বলে দাবি করেন এই বিএনপি নেতা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়— উল্লেখ করেন তিনি।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে বলেছেন, তিনি চার মাস আগে এই কলেজে যোগ দেন। এর পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়।”

তবে কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার