Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রে বৃষ্টি হত্যাকাণ্ড

মৃত্যু মানা যায়, তাই বলে এমন মৃত্যু!

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

মৃত্যু মানা যায়, তাই বলে এমন মৃত্যু!

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়েছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। সেখানেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিনি। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মেধাবী এ শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে স্তব্ধ তার শিক্ষক, সহপাঠী এবং অনুজরা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে নাহিদার মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হচ্ছে। অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগে এখন শোকাতুর পরিবেশ। ১৩তম ব্যাচের কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবে নাহিদার অমায়িক ব্যবহার ও মেধার কথা স্মরণ করে ভেঙে পড়েছেন সহপাঠীরা।

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোবিপ্রবি থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি পড়ছিলেন। নিজ বিভাগ ছাড়িয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়েই ছিল তার বিচরণ। 

স্মৃতিচারণ করে সহপাঠী মোহাম্মদ আরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘সে ক্লাসের খুবই হাস্যোজ্জ্বল মেয়ে ছিল। পড়াশোনায় যেমন ভালো ছিল তেমন নাচ, গান, কবিতা, রবীন্দ্র সংগীতেও ভালো দক্ষতা ছিল তার। খুবই মিশুক মেয়ে ছিল আমাদের ক্লাসের। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা সহপাঠীরা খৃবই মর্মাহত এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নোবিপ্রবির অনেক শিক্ষার্থীকে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সিএসটিই বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রাফি উল ইসলাম লিখেছেন, ‘একটা জিনিস জাস্ট ভাবেন, প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে আপনার আদরের ছোট বোন নিখোঁজ। খুব সকালে একটা কল এবং আপনি জানলেন, আপনার বোন আর বেঁচে নাই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় কিন্তু এমন অপমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আল্লাহ বৃষ্টিকে পরপারে জান্নাত দান করুন। আমিন।’

প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদ তৌসিফ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভাগ্যটাই হয়তো এমন। নিজ দেশে থাকুক কিংবা দেশের বাইরে, স্বাভাবিক মৃত্যু যেন এদের কপালে নেই।’

নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আজ বাংলাদেশের জন্য খুব দুঃখের একটি দিন। নোবিপ্রবির জন্যও খুবই দুঃখের একটা দিন। খুবই কষ্টের একটা দিন। আমেরিকায় পিএইচডি করতে গিয়ে দুই মেধাবী শিক্ষার্থী এখন লাশ হয়ে দেশে ফিরবে। ওদের বাবা মার কি অবস্থা, ভাবতে ও কষ্ট হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কত কষ্ট করে বাবা-মা সন্তানদের বড় করেন, পড়াশুনার জন্য কত সংগ্রাম করেন। আর এসব মেধাবী শিক্ষার্থীও কত সহস্র রজনী নির্ঘুম কাটিয়ে, কত কষ্ট করে পিএইচডি করতে যায়, পিএইচডি করে। নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল। আল্লাহ দুজনকে বেহেশত নসীব করুন।’

নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা নাহিদা বৃষ্টির রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন নাহিদা। দীর্ঘ তল্লাশির পর মার্কিন পুলিশ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাসা থেকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সাথে নিখোঁজ হওয়া আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয় এর আগে। দুই বাংলাদেশির এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ‘বর্বরোচিত’ বলে উল্লেখ করছেন শিক্ষার্থীরা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার