Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

১-১২তম নিবন্ধনধারীদের ফাইল তুলল শিক্ষা মন্ত্রণালয়

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

১-১২তম নিবন্ধনধারীদের ফাইল তুলল শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রথম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে ফাইল তুলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে ফাইলটি উপসচিব ও যুগ্মসচিবের টেবিল অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটি বলছে, ১-১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা এসেছে। এরপর তারা আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদন বিবেচনা করা যায় কিনা, সেজন্য আবেদনটি ডি-নথিতে তোলা হয়েছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘১-১২তম নিবন্ধনধারীদের ফাইল তোলা হয়েছে। বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার অতিরিক্ত সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এ বিষয়ে মতামত দেবেন। এরপর কোন প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেওয়া যায় সেটি ঠিক করা হতে পারে।’

১-১২তম নিবন্ধনধারীদের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মামলা চলমান রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা কঠিন। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। এরপর তাদের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।’

১-১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা এসেছে। এরপর তারা আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদন বিবেচনা করা যায় কিনা, সেজন্য আবেদনটি ডি-নথিতে তোলা হয়েছে।

এর আগে ১-১২তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের মধ্যে যাদের বয়স ৩৫ বছর অতিক্রম করেছে এবং নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ৩ বছর অতিক্রম হয়েছে তাদের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠায় এনটিআরসিএ। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশনা অনুযায়ী গত মার্চ মাসে এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ মন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হয়।

এনটিআরসিএ জানিয়েছে, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ (১ নং আইন) এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অর্থাৎ ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী প্রার্থীদের অনুকূলে কেবল প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করা হয়েছে। নিবন্ধনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য আবেদন করার সুযোগ ছিল এবং ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কর্তৃক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হত।’

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ এর ১০(২) অনুযায়ী ‘কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত শিক্ষকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, নিবন্ধিত ও প্রত্যয়নকৃত না হইলে কোন ব্যক্তি কোন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগের জন্য যোগ্য বিবেচিত হইবেন না।’ এ কার্যালয় হতে ১ম থেকে ১২তম প্রার্থীদের অনুকূলে সরবরাহকৃত প্রত্যয়নপত্র শুধুমাত্র শিক্ষকতার জন্য আবেদন করার যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতো। এ প্রত্যয়নপত্র কোনোভাবে চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করে না।’

সার সংক্ষেপে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্রের কোনো মেয়াদ উল্লেখ ছিল না। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬ (সংশোধিত-২০১২) অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্রের মেয়াদ ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়। 

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬ (সংশোধিত-২০১৩) অনুসায়ী প্রত্যয়নপত্রের মেয়াদ তুলে দেওয়া হয়। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬ (সংশোধিত-২০১৫) অনুযায়ী প্রত্যয়নপ্রত্রের মেয়াদ পুনরায় ৩ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এনটিআরসিএ জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ২০১৫ সালের জারিকৃত পরিপত্রের মাধ্যমে এনটিআরসিএকে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ১-১২তম ব্যাচের সব প্রার্থী আবেদনের সুযোগ পান। আবেনদকারী প্রার্থীগণের মধ্যে হতে মেধার ভিত্তিতে শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তীতে ১৩তম এবং তৎপরবর্তী ব্যাচের সাথে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তিতে ১ম-১২তম ব্যাচের প্রার্থীগণ আবেদনের সুযোগ পেয়ে মেধার ভিত্তিতে শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগ সুপারিশ প্রাপ্ত হন। অর্থাৎ ১-১২তম ব্যাচের প্রার্থীগণ ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ পেয়েও সংশ্লিষ্ট পদ শূন্য না থাকায় এবং মেধায় পিছিয়ে থাকায় নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্ত হন নাই।

এর সার সংক্ষেপে বলা হয়েছে, ১-১২তম ব্যাচের সকল প্রার্থীগণ নিয়োগের দাবি করে রিট পিটিশন নং-১৩২৪/২০১৭ সহ ১৬৬ টি রিট মামলা দায়ের করেন। রিটের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ৭টি Directions and Guideline প্রদান করেন। উক্ত The Directions and the Guideline আলোকে এমপিও নীতিমালা অতিরিক্ত সুচিত্র (মাধ্যমিক-২) অনুযায়ী বয়স ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয় এবং এনটিআরসিএ জাতীয় মেধা তালিকা প্রণয়ন করে যা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল আপিল (নম্বর-৭১/২০২৩) দায়ের করা হয়েছিল। Directions and the Guideline -সহ রায় আপিল বিভাগ বাতিল করেন। রিট পিটিশনে হাইকোর্ট বিভ রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন। সিভিল রিভিউ পিটিশনটি চলমান রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত মেয়াদ ফলাফল প্রকাশের তারিখ হতে ৩ (তিন) বছর বহাল রাখেন। 

সিভিল আপিলেরমডিফিকেশনের আবেদনের শুনানি চলমান। ৩৫ বছর ঊর্ধ্ব প্রার্থীরা নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তির অধীনে আবেদনের সুযোগ চেয়ে অনেকগুলো রিট মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলোর সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়।’

সবশেষ এনটিআরসিএ জানিয়েছে, রিট পিটিশনারগণ সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিলের মোট ১৯টি মামলা মডিফিকেশনের আবেদন চূড়ান্ত নিস্পত্তি প্রয়োজন। এছাড়া রিট মামলার নির্দেশনার ভিত্তিতে এমপিও নীতিমালায় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বয়স ৩৫ বছর এবং সনদের মেয়াদ ৩ বছর বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগ ও সলিসিটর অনুবিভাগের মতামত প্রয়োজন। এই মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালায় বয়স ৩৫ বছর ও সনদের মেয়াদ ০৩ বছর সংশোধনপূর্বক এনটিআরসিএ বরাবরে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার