Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

হাসিনা-টিউলিপ বড় অংকের উৎকোচ নেওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বেড়ে হয় ৩ গুণ

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

হাসিনা-টিউলিপ বড় অংকের উৎকোচ নেওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বেড়ে হয় ৩ গুণ

বিজ্ঞাপন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাতের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের সাহায্যকারী হিসেবে ওঠে আসে রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটেমের নাম।যদিও রোসাটেম বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার আমলে রূপপুর প্রকল্প থেকে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জয় এবং তার পরিবারের সদস্য যুক্তরাজ্যে বসবাসরত টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়। সেই অভিযোগ এখন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক তদন্ত করছে। অভিযোগ আছে, রূপপুর কেন্দ্রের ঠিকাদার রোসাটম শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারকে ওই টাকা দিয়ে এই প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত করেছে। অথচ অন্যান্য দেশে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয় না। এখন পুরো জাতির কাছে এই প্রকল্প ব্যয় একটি বড় ধরনের বোঝা। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এই বোঝা এখন এসে পড়েছে বিএনপির সরকারের কাঁধে।

২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা ‘গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প’ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর শিরোনাম ছিল ‘আউস্টেড বাংলাদেশ’স প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা, হার সান সজীব ওয়াজেদ জয় অ্যান্ড নিস টিউলিপ সিদ্দিক এমবেজেলড ৫ বিলিয়ন ডলার্স ফ্রম ওভারপ্রাইজড ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার্স রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থ্রু মালয়েশিয়ান ব্যাংকস’। কর্পের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাশিয়ার রোসাটম মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এ অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছে। এতে মধ্যস্থতা করেছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। শেখ হাসিনা এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র অদূর ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুতের ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি ভিভিইআর ইউনিট ব্যবহার করে ২০২৪ সালের মধ্যে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি অবশ্যই বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে। এতে বলা হয়, গণমাধ্যমে এমন ইতিবাচক প্রচারণার আড়ালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রোসাটম) থেকে সোভিয়েত আমলের পারমাণবিক চুল্লি কেনার জন্য ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ লোপাট করেছেন শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা। এর নির্মাণব্যয় তুলনামূলকভাবে বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকে গোপনে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছে রাশিয়া। মালয়েশিয়ার ওইসব ব্যাংকে রাশিয়ার বিশেষ তহবিল থেকে এ অর্থ এসেছে।

এদিকে রূপপুর কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে বিতরণ করবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি। ওই সংস্থার একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রূপপুর কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্প ব্যয় নির্মাণের কাগজপত্র সহজে রোসাটম দেখাচ্ছে না; যা বেশ সন্দেহজনক। পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেছেন, কত দামে রূপপুরের বিদ্যুৎ কেনা হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এজন্য তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।

রূপুপর প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রূপপুর প্রকল্পে শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতির অভিযোগ বেশ আলোচিত। বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, রূপপুর প্রকল্পের দুর্নীতির সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিকী জড়িত। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। তাই বর্তমান সরকারের উচিত এই প্রকল্প নিয়ে আরও অধিকতর অনুসন্ধান করা। 

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি মানে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়া। অনেক প্রকল্পের মতো রূপপুর প্রকল্পেও তাই করা হয়েছে। সুতরাং বিষয়টিকে সেভাবে দেখে তদন্ত করা দরকার। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মেগা দুর্নীতির একটি হচ্ছে— রূপপুর প্রকল্প। বিএনপি সরকার সেই দুর্নীতির দায় না নিয়ে ঠিকমতো তদন্ত করলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রূপপুর কেন্দ্রের একটি ইউনিটের জ্বালানি লোড করা হয়। এর ফলে রূপপুর থেকে আগস্টে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

হাসিনা, জয় ও টিউলিপের দুর্নীতি অনুসন্ধানে ধীরগতি: এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা) লোপাটের অভিযোগ আছে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকে বিরুদ্ধে। অথচ প্রায় ১৬ মাস আগে উঠা এ অভিযোগের বিষয়ে দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) অনুসন্ধান চলছে ধীর গতিতে। অনুসন্ধান দল এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি। দুদক সংশ্লিষ্টদের দাবি-বর্তমানে কমিশন না থাকায় দুদকের সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগ অনুযায়ী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্প থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে বিলম্ব হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ায় অনুসন্ধান এগোচ্ছে ধীরগতিতে।

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক তথ্য বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন দেশে এমএলআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) পাঠানো হয়েছে। তবে দুদকের কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় না থাকায় এসব অনুরোধের প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এসব নথি হাতে না পাওয়ায় অনুসন্ধান দল চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারছে না। প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ হাতে এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দুদকের সূত্রগুলো জানাচ্ছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম দুপুরে বলেন, এই মুহূর্তে রূপপুর দুর্নীতিসংক্রান্ত অনুসন্ধান সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে পরে খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে জানানো যাবে। এরপর বিকালে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

দুদকের অচলাবস্থার বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, কমিশন ছাড়া দুদক আইনে নির্ধারিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে কার্যক্রমে একধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কমিশন থাকার সময় যেসব অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুমোদিত হয়েছিল, সেগুলো সীমিত পরিসরে চলমান রয়েছে। তবে নতুন কোনো অনুসন্ধান বা মামলা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার