বিজ্ঞাপন
দেশে আরও ৫টি উপজেলা হচ্ছে : বাড়ছে সিটি করপোরেশনও
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
দেশে আরও ৫টি উপজেলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে সিটি করপোরেশনের সংখ্যাও। উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হচ্ছে। দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন জেলায় নতুন আরও ৫টি উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম সভায়।
বগুড়া পৌরসভাকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন করার প্রস্তাব নিকার সভায় উঠছে।
কক্সবাজার, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও ও লক্ষ্মীপুরে নতুন ৫টি উপজেলা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি সেবা আরও কার্যকর হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বর্তমানে দেশের ৮টি বিভাগের অধীনে মোট ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। সর্বশেষ নতুন ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে বগুড়া সিটি করপোরেশন অনুমোদনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে নিকার সভায়। এসব সিটি করপোরেশন হলো–ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, খুলনা সিটি করপোরেশন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, বরিশাল সিটি করপোরেশন, সিলেট সিটি করপোরেশন, রংপুর সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।
পাশাপাশি দেশে বর্তমানে মোট ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলার স্থানীয় মাঠ প্রশাসনে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আগে সর্বশেষ মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা, কক্সবাজারের ঈদগাঁও এবং সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা গঠন করা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী বগুড়া পৌরসভার জনসংখ্যা, আয়তন, রাজস্ব আয়, বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা সিটি করপোরেশন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী এখানে স্থায়ী জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার হলেও বাস্তবে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। প্রাক-নিকার কমিটির সভায় ইতোমধ্যে এ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সভায় কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘মাতামুহুরী’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসছে। প্রস্তাবিত এ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশই উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় অবস্থিত, যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল এবং বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ থাকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন উপজেলা গঠন করা হলে প্রশাসনিক সেবা সহজলভ্য হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘মোকামতলা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব রয়েছে সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে প্রস্তাবিত এ উপজেলার আয়তন ও জনসংখ্যা বিদ্যমান নীতিমালার শর্ত পুরোপুরি পূরণ না করলেও ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত বাস্তবতা বিবেচনায় শর্ত শিথিলের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাক-নিকার কমিটি এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সর্বসম্মত মত দিয়েছে।
অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ নামে দুটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমানে ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সদর উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে এই বিভাজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, রুহিয়া উপজেলায় ছয়টি এবং ভুল্লী উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব এসেছে নিকার সভায়। এই প্রস্তাবে নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলার বেশ কিছু এলাকা উপকূলীয় এবং সদর উপজেলা থেকে দূরবর্তী হওয়ায় নাগরিক সেবা গ্রহণে ভোগান্তি রয়েছে। নতুন উপজেলা গঠন হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত প্রতিটি উপজেলা গঠনের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, গণশুনানি, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়েছে। নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলো গঠিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবার বিকেন্দ্রীকরণ ত্বরান্বিত হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে গতি আসবে।
ইতোমধ্যে সব প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে প্রাক-নিকার কমিটির সুপারিশ পেয়েছে। এখন নিকার সভার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই এক্ষেত্রে অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, নিকার সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে।