বিজ্ঞাপন
ভাতিজিকে শেষ দেখা হলো না ফুপুর, আক্ষেপ সারাজীবনের
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি যেদিন উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান, সেদিন পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে শেষ দেখা করেন। একইদিনে তার সাথে দেখা করার কথা ছিলো ছোট ফুপু রুনা বেগমের। তবে দেরি করায় আসায় চলে যায় বৃষ্টি। আর শেষ দেখা হয়নি একমাত্র ভাতিজির সঙ্গে। ভাতিজি তাকে কথা দিয়েছিল, উচ্চশিক্ষা শেষে বাড়ি ফিরেই দেখা করবেন ফুফু রুনার সঙ্গে। তবে সেই দেখা আর হলো না। যুক্তরাষ্ট্রে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ভাতিজিকে দেখার আক্ষেপ বয়ে বেড়াবেন সারাজীবন।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায়। জহির উদ্দিন আকন ও আলভী বেগম দম্পত্তির ছোট সন্তান তিনি। বাবার কর্মস্থল ঢাকা হওয়ায় জন্মের কয়েক মাস পর মায়ের সঙ্গে ঢাকায় চলে যান তিনি। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন বৃষ্টি। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল থেকেই বৃষ্টি নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে বৃষ্টি ও তার সহপাঠী লিমনের মৃত্যুর খবর পান তারা। শনিবার (৯ মে) সকালে বাংলাদেশের পৌঁছায় বৃষ্টির মরদেহ। ইতোমধ্যে তাকে নিজ বাড়িতে দাফনের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নির্মমতায় শিউরে উঠছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি চাইছেন হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
নিহতের ফুপু রুনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘সেদিন যদি তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারতাম, তাহলে আমার ভাতিজিকে শেষ দেখা দেখতেন পারতাম। ও আমাকে কথা দিয়েছিল দেশে এসে আমার সাথে দেখা করবে। কিন্তু সেই দেখা হলো না। যারা আমার ভাতিজিকে হত্যা করেছে তাদের আমরা বিচার চাই।’
বৃষ্টির চাচা হেদায়েত আকন বলেন, ‘ভাতিজিকে পড়াতে গিয়ে আমার ভাইয়ের অনেক টাকা ব্যায় হয়েছে। আজ আমার ভাতিজি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার। মৃত্যুর পর ওকে বিশ্ববিদ্যালয় মরণোত্তর পদক দিয়েছে। তবে এই পদক দিয়ে এখন আর কি হবে? আমরা চাই হত্যাকাণ্ডের বিচার আর ক্ষতিপূরণ। সরকার যেন এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়।’
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব খবরের কাগজকে বলেন, ‘বৃষ্টির মৃত্যু আমাদের দেশের অপূরণীয় ক্ষতি। টাকা দিয়ে এই ক্ষতি কখনোই পূরণ করা যাবে না। আমরা উপজেলা প্রশাসন সব সময় পরিবারটির পাশে আছি। তাদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।’