বিজ্ঞাপন
পরমাণু সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো রাশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
রাশিয়া নতুন প্রজন্মের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই পরমাণু সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের “সবচেয়ে শক্তিশালী” ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। খবর আল জাজিরার।
রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, দেশটির কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রধান সের্গেই কারাকায়েভ পুতিনকে সফল উৎক্ষেপণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করছেন।
পুতিন জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ সামরিক বাহিনীর সক্রিয় অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হবে।
টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন বলেন, “এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র।”
তিনি দাবি করেন, এর ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা পশ্চিমা বিশ্বের যেকোনো সমমানের ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।
রুশ প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, সারমাত সাব-অরবিটাল বা আংশিক মহাকাশপথে উড়তে সক্ষম, যার পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। তার দাবি, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে পারবে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উন্নয়নাধীন ছিল সারমাত প্রকল্প। ২০১১ সালে এর কাজ শুরু হলেও মঙ্গলবারের উৎক্ষেপণের আগে মাত্র একটি সফল পরীক্ষার তথ্য জানা গিয়েছিল। ২০২৪ সালে একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ বড় ধরনের বিস্ফোরণে ব্যর্থ হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।
পশ্চিমা বিশ্বে ‘স্যাটান-টু’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সোভিয়েত আমলের প্রায় ৪০টি ভয়েভোদা ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। পুতিন বলেন, সারমাত ভয়েভোদার সমপর্যায়ের শক্তিশালী হলেও এতে নির্ভুলতা আরও বেশি।
এই উৎক্ষেপণ এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র সীমিত রাখার সর্বশেষ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ গত ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ করে। ফলে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তি কোনো আনুষ্ঠানিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির বাইরে চলে গেছে।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও মস্কো ও ওয়াশিংটন উচ্চপর্যায়ের সামরিক সংলাপ পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে। তবে নতুন কোনো সমঝোতার বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে নিউ স্টার্ট চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যদিও বেইজিং প্রকাশ্যে সেই চাপ প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০০০ সালে ক্ষমতায় আসার পর পুতিন রাশিয়ার পারমাণবিক ত্রয়ী—স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন ও কৌশলগত বোমারু বিমান—ব্যাপক আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন।
২০১৮ সালে সারমাতের পাশাপাশি পুতিন আরও কয়েকটি নতুন প্রজন্মের অস্ত্র উন্মোচন করেন। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাভানগার্ড হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল, যা শব্দের গতির ২৭ গুণ দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম।
এ ছাড়া রাশিয়া নতুন পারমাণবিক সক্ষম ওরেশনিক মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও যুক্ত করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে এর প্রচলিত সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে। ৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
পুতিন আরও জানান, রাশিয়া বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ‘পোসেইডন’ পানির নিচের ড্রোন এবং ক্ষুদ্র পারমাণবিক রিয়্যাক্টরচালিত ‘বুরেভেস্টনিক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রাশিয়ার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোকাবিলায় এই নতুন অস্ত্রসম্ভার তৈরি করা হয়েছে।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধকালীন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সীমাবদ্ধতা চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর মস্কো মনে করে, ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে রাশিয়ার কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
পুতিন বলেন, “নতুন বাস্তবতায় আমাদের কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়েছিল।”