বিজ্ঞাপন
হাঁটছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১২ মে) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাত ১১টার পর পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম আবর্তনের (শিক্ষাবর্ষ ২০২১-২২) একজন শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীর বরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, রাত ১১টার কিছু পর তিনি ক্যাম্পাসের একটি সড়ক দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেসা হলসংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি জালসদৃশ একটি বস্তু তার গলায় পেঁচিয়ে পাশের ঝোপঝাড়ে টেনে নিয়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে কয়েকজন শিক্ষার্থী তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
বাংলা বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চিৎকার শুনে আমরা সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল থামিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ঝোপের পাশে এক ছাত্রীকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখাকে বিষয়টি জানালে নিরাপত্তাকর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘রাত সোয়া ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমরা পুরো এলাকা তল্লাশি করেছি, তবে অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হয়। অভিযুক্তকে শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে প্রশাসন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি জালসদৃশ বস্তু দিয়ে ছাত্রীর গলায় পেঁচিয়ে তাকে আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন ঝোপে টেনে নিয়ে যায়। ফুটেজের ভিত্তিতে আমরা প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা অভিযুক্তের মুখ দেখতে পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।’