Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

জাতীয়

পে স্কেল: চুপি চুপি প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার, আসছে নতুন চমক

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১১:২৫ এএম

পে স্কেল: চুপি চুপি প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার, আসছে নতুন চমক

বিজ্ঞাপন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীরবে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। আগামী মাসের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে জাতীয় বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেলের প্রাথমিক রূপরেখা আসতে পারে।

সূত্র বলছে, সামনের মাসের ৭ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বসতে যাচ্ছে সরকার। সংসস সচিবালয় সূত্রের তথ্য, ইতোমধ্যেই ওইদিন বেলা ৩টায় সংসদের অধিবেশন আহবান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এটি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। এ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটের এ অধিবেশনেই নবম পে-স্কেল নিয়ে সারপ্রাইজ দেখতে পাবেন লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবীরা। কেননা এ অধিবেশন থেকেই মিলবে পে স্কেল তথা নতুন বেতন কাঠামোর বরাদ্দ। 

জানা গেছে, বর্তমান দ্রব্যমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ নিয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে দেশের অর্থনৈতিক চাপ ও রাজস্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, একযোগে পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল কার্যকর না করে প্রথমে সীমিত আকারে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সুবিধা সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের সব সুবিধা কার্যকর হতে পারে।

পে-কমিশনের সুপারিশে প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় করলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডারের পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বা বিশেষায়িত বেতন কাঠামো নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর গত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

তাদের দাবি, বাজেটের আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ ও বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক স্বস্তি অনেকটাই বাড়বে। তবে সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেডভিত্তিক নতুন বেতন কাঠামো প্রকাশ করেনি। তাই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য বেতন নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার