আন্দোলনকারী শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রণালয়ের কঠোর হুঁশিয়ারি
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২৮ পিএম
তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা যে ‘লাগাতার’ কর্মবিরতি পালন করছেন, সেটিকে ‘সরকারি চাকরি আইন ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা’র পরিপন্থি বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রোববার (৩০ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, আর এ সময়ে কর্মবিরতি কর্মসূচি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেবে। তাই শিক্ষার্থীদের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে এই কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষকদের অনুরোধ করা হলো।
শিক্ষকদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়ার বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি মন্ত্রণালয় যৌক্তিক মনে করে। এ প্রেক্ষিতে গত ১০ নভেম্বর শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দাবি পূরণে অর্থ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে অর্থ উপদেষ্টা ও বেতন কমিশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে বেতন স্কেল উন্নীতকরণের বিষয়টি পে-কমিশনে কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অর্থ বিভাগ কর্তৃক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে মর্মে গত ১০ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে একটি চিঠি ইস্যু করে ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা বিনা ব্যর্থতায় নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। এতে পরীক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষক বা কর্মকর্তার কোনো প্রকার শৈথিল্য বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এই হুঁশিয়ারির পরও পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়কদের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, তিন দফা দাবি আদায়ে সহকারী শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করে আসছেন এবং চলমান পূর্ণদিবস কর্মবিরতির পরিপ্রেক্ষিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক পরীক্ষা) বর্জনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তারা দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন করে শিক্ষকদের পরীক্ষার কক্ষে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে বিনীত নিবেদনও জানিয়েছেন। সহকারী শিক্ষকদের মূল দাবিগুলো হলো দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ বছর ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।