Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

১২ আসনে প্রার্থী রদবদল করল বিএনপি

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৪০ পিএম

১২ আসনে প্রার্থী রদবদল করল বিএনপি

বিজ্ঞাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগেই দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তবে মাঝ পথেই ১২ আসনে মনোনয়ন রদবদল করেছে দলটি। আরও কিছু আসনে দুয়েক দিনের মধ্যে পরিবর্তন হতে পারে।

গত ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রথম পর্যায়ে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। এক দিন পরই মাদারীপুর-১ আসনের ঘোষিত প্রার্থী কামাল জামাল মোল্লার নাম স্থগিত করা হয়। পরে ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। সব মিলে ২৭২টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। এর বাইরে সম্প্রতি বাকি ২৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।

এই ২৮ আসনের মধ্যে জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম চারটি আসন এবং নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ একটি করে আসন পেয়েছে। এ ছাড়া দল বিলুপ্ত করে দুটি দল দুটি আসন, বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন তিন নেতা। 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত আসনের মধ্যে বেশ কিছু আসনে প্রার্থী রদবদলে চমক সৃষ্টি করেছে বিএনপি। এর মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর) আসন থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে নেওয়া হয়েছে। আর চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রয়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। আবার চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের আংশিক) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। এর আগে এই আসনে বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আন্দোলনের মুখে এ পরিবর্তন আনা হয়।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি এতদিন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুকের জন্য নির্ধারিত ছিল। সম্প্রতি বিএনপির আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ায় এই আসনটি ফাঁকা রয়েছে। তবে আজকের মধ্যে এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে বিএনপি।

পিরোজপুর-১ আসনটি জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের জন্য নির্ধারিত ছিল। সেখানে জেলা বিএনপির নেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, মোস্তফা জামাল শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় এখানে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাইফুল আলম নীরব। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এই আসনে নির্বাচন করেছিলেন। তবে জোটের রাজনীতিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে এই আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে বিএনপি।

শারীরিক অসুস্থতার প্রেক্ষাপটে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। বুধবার রাতে সাবেক মনোনীত প্রার্থীর পরিবর্তে দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। এর মধ্যে একটি আসন জোটের শরিক দলকে ছেড়ে দিয়েছে। গত বুধবার দুপুরে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। এরপর রাতে যশোর-১ (শার্শা) ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। যশোর-৫ আসনে প্রাথমিকভাবে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল দল। পরে তাঁকে বাদ দিয়ে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। যশোর-৪ আসনে প্রথমে মনোনয়ন পান কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব। নতুন করে পেয়েছেন দলের অভয়নগর উপজেলা সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী।

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। নড়াইল-২ আসনে বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছিল দল। তবে ১১ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও এনপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে এই আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার