বিজ্ঞাপন
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রার্থী যারা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
বিজ্ঞাপন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে বিএনপি। দলটি এবার এক পরিবারে এক প্রার্থী নীতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে নতুন মুখের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও অনেক পরিচিত নেত্রী বাদ পড়তে পারেন। যেসব পরিবারে ইতোমধ্যে এমপি বা মন্ত্রী আছেন, তাদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার নীতিগত অবস্থান রয়েছে দলের।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এখন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় নেত্রীদের তৎপরতা বেড়েছে। শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেত্রীদের পাশাপাশি তরুণ মুখও রয়েছেন তালিকায়।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। সাধারণ আসনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে এই আসন বণ্টন হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পাওয়ায় দলটির ভাগে প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পড়ছে। স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সাতজন যদি দলে ফেরেন, সে ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যেই এক পরিবারে এক প্রার্থী নীতি নেওয়া হয়েছে। এ নীতি পুরোপুরি কার্যকর হলে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী ও মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুন অর রশীদের স্ত্রী আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদসহ আরও অনেকে তালিকায় থাকলেও মনোনয়ন নাও পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত ব্যতিক্রমও হতে পারে বলে মনে করছেন নেত্রীদের কেউ কেউ।
দলের ভেতরে আলোচনা আছে, এবার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। তিনি সাধারণ আসনে মনোনয়ন না পেলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী করার আলোচনাও রয়েছে।
এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনের জন্য যাদের নাম বেশি আলোচিত তাদের মধ্যে আছেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদ, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সাবেক সদস্য সচিব নাসিমা আক্তার কেয়া, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত নাসির উদ্দিন পিন্টুর বোন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
এ তালিকায় আরও আছেন সাবেক ছাত্রদল নেত্রী শওকত আরা ঊর্মি ও শাহিনুর সাগর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও ফুলবাড়ী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাহসিনা হক লিরা, বরিশাল-৩ আসনের সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর মেয়ে অধ্যাপক ডা. জাহানারা লাইজু, পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আনোয়ারা খান এবং পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিজা জামান।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সুপারিশের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীত ত্যাগ বিবেচনায় তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। প্রথমে একটি বড় তালিকা তৈরি করে ধাপে ধাপে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
সংরক্ষিত আসনের বাইরে উচ্চকক্ষে নেওয়ার আলোচনায় রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন ও কনকচাঁপা। পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যেসব নারী অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদেরও মূল্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন