Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

ঈদের আগেই ছাত্রদলের নতুন কমিটি? নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

ঈদের আগেই ছাত্রদলের নতুন কমিটি? নেতৃত্বে আসতে পারেন যারা

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠনের আলোচনা এখন তুঙ্গে। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি দলীয় হাইকমান্ডও রাজপথে পরীক্ষিত ও সংগঠনে সক্রিয় নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার চিন্তা করছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কয়েকজন নেতার নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা দায়িত্ব পাবেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।

বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ

ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির দুই বছরের মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্বের মেয়াদও কার্যত শেষ হয়েছে।

২০২৪ সালের ১ মার্চ গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলেও এখন নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর গুঞ্জন

কেন্দ্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—উভয় স্তরেই দীর্ঘদিন ধরে নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা চলছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কমিটি পুনর্গঠনের আলোচনা থাকলেও নির্বাচনের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন দ্রুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ঠিকই, তবে নতুন কমিটি কবে ঘোষণা হবে সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

সভাপতি পদে যাদের নাম আলোচনায়

নতুন কমিটি সিনিয়রিটি বিবেচনায় গঠন হলে কয়েকটি সেশন থেকে একাধিক নেতার নাম সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে।

০৭–০৮ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম এবং সহসভাপতি জহির রায়হান আহমেদ।

০৮–০৯ সেশন থেকেও কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সহসভাপতি এজাজুল কবির রুয়েল, রিয়াদ রহমান, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, এইচ এম আবু জাফর, খোরশেদ আলম সোহেল ও সাফি ইসলাম।

অন্যদিকে ২০০৯–১০ সেশনের নেতাদের মধ্য থেকেও নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। এই সেশন থেকে সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান। পাশাপাশি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, মাসুদুর রহমান, মো. বায়েজিদ হোসাইন এবং ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

সাধারণ সম্পাদক পদেও কয়েকজন নেতার নাম সামনে এসেছে।

১০–১১ সেশন থেকে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং মাসুম বিল্লাহ সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

অন্যদিকে ১১–১২ সেশন থেকে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, তারিকুল ইসলাম তারিক এবং তারেক হাসান মামুনের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান উভয় পদেই আলোচনায় রয়েছেন। তিনি আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাবি ছাত্রদলেও নতুন নেতৃত্বের আলোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলেও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সেশন থেকে কয়েকজন নেতার নাম সম্ভাব্য তালিকায় উঠে এসেছে।

২০১৩–১৪ সেশন থেকে বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুকের নাম আলোচনায় রয়েছে। ২০১৪–১৫ সেশন থেকে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিএম কাউসার ও সাইফ খানের নাম শোনা যাচ্ছে।

২০১৫–১৬ সেশন থেকেও কয়েকজন নেতা আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনে আলোচিত ভিপি প্রার্থী ইসলাম খান এবং দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামীর নাম উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া ২০১৬–১৭ সেশন থেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আবু হায়াত মোহাম্মদ জুলফিকার জিসান এবং প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান আলোচনায় রয়েছেন।

২০১৭–১৮ সেশন থেকে আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান ও ডাকসু নির্বাচনে এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদের নামও শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে ২০১৮–১৯ সেশনের শিক্ষার্থী এবং ডাকসু নির্বাচনে আলোচিত জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।

দলীয় নেতাদের বক্তব্য

বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন শাখায় পর্যায়ক্রমে নতুন কমিটি দেওয়া হবে। সেখানে প্রকৃত ছাত্র এবং যারা সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত, তাদেরই গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ছাত্রদলের কমিটি পুনর্গঠন দলীয় সাংগঠনিক ধারাবাহিকতার অংশ। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার