বিজ্ঞাপন
সংরক্ষিত তিন নারী আসন ছেড়ে দিচ্ছে জামায়াত
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
জোটের স্বার্থে নিজেদের প্রাপ্ত আসন থেকে কিছুটা ছাড় দিচ্ছে জামায়াত। ইতোমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের প্রাপ্ত ১২টি আসনের ৩টি জোট সঙ্গীদের কাছে ছেড়েছে জামায়াত। নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩টি নারী আসনের এমপি চূড়ান্ত করেছে দলটি। তারা হলেন— জাগপা চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান, আলোচিত এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু এবং একজন জুলাই শহীদের মা।
নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, নিজেদের প্রাপ্ত আসনের সংখ্যানুপাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ১৩টি আসন পেতে যাচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৬টি পুরুষ আসনের বিপরীতে ১টি করে নারী আসন পেয়ে থাকে দলগুলো। সে হিসাবে জামায়াত জোটের প্রাপ্ত ১৩টি আসনের ১২টিই জামায়াতে ইসলামীর এবং অবশিষ্ট ১টি আসন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির পাওয়ার কথা রয়েছে। পর্যাপ্ত আসনে বিজয়ী হয়ে আসতে না পারায় অন্য ৯টি দলের কারোই সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে জোটের স্বার্থে নিজেদের প্রাপ্ত আসন থেকে কিছুটা ছাড় দিচ্ছে জামায়াত।
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ১৩টি আসন পেতে যাচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। যার মধ্য থেকে ১৩টি আসনের ১২টিই জামায়াতে ইসলামীর এবং অবশিষ্ট ১টি আসন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির। আমরা মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে আমীরে জামায়াতের কাছে একটি তালিকা দিয়েছি। জামায়াতের ১২টি আসন থেকে এনসিপি নেত্রী মিতু, জাগপা চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং একজন জুলাই শহীদের মাকে চূড়ান্ত করেছে নির্বাহী পরিষদ। বাকি ৯টি আসনের চূড়ান্ত নাম ২১ তারিখে জানা যাবে। তবে এটুকু নিশ্চিত একই পরিবার থেকে দুইজন সংসদ সদস্য হচ্ছেন না। যেমন—ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মেয়ে। আমাদের নীতিগত জায়গা থেকে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ২১ তারিখে চূড়ান্ত নমিনেশন পেপার সাবমিট হবে। নির্বাহী পরিষদ যাদের চূড়ান্ত করবেন কেবলমাত্র তারাই নমিনেশন পেপার সাবমিট করবেন। আমাদের একই পরিবারেই যোগ্য ব্যক্তি ছিল তবে, আমরা পরিবারতন্ত্র চাই না। তাই একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সংসদ সদস্য হচ্ছেন না। তার মানে এই না একই পরিবারের যারা রয়েছেন তারা যোগ্য নয়। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক যোগ্যতার পাশাপাশি বক্তব্যে পারদর্শী নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
দলটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জোট শরীক ও জুলাই শহীদ পরিবারকে ৩টি আসন ছেড়ে জামায়াতের নিজেদের জন্য রাখছে ৯টি আসন। এসব আসনের জন্য নির্ধারিত প্রার্থীর তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে মহিলা জামায়াতের নেতৃত্ব দেওয়া দলের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আখন্দের স্ত্রী এবং মহিলা জামায়াতের আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, আলোচিত টকশো ব্যক্তিত্ব মারদিয়া মমতাজের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বগুড়া থেকে একজন করে আঞ্চলিক নারী নেত্রীর নাম সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত সংসদ সদস্যের তালিকায় রয়েছে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।