দেশে আসা নিশ্চিত নয় বলে জানালেন তারেক রহমান
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৪৭ এএম
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। এমন পরিস্থিতিতে মায়ের পাশে থাকতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। দলের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল, নভেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন লন্ডনে ১৭ বছর ধরে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা তারেক রহমান। পরে জানানো হয়, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তিনি আসতে পারেন। তবে গতকাল শনিবার তারেক রহমান জানান, তাঁর দেশে আসা নিশ্চিত নয়।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’
তারেক রহমান আরও লেখেন, ‘স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’
ফেসবুক পেজে তাঁর এ বক্তব্যের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে ফের ধোঁয়াশার পাশাপাশি নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আগেও দাবি করা হয়েছিল, নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। তবে এই ঝুঁকি দেশ-বিদেশ কোন জায়গা থেকে রয়েছে, তা কখনও খোলাসা করা হয়নি।
দেশে ফেরায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়– তারেক রহমানের এ বক্তব্যের কারণে রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা কে বা কাদের ওপর নির্ভর করছে– এমন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিধিনিষেধ বা আপত্তি নেই।
বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের এখন জাতীয়তাবাদী আদর্শের শীর্ষ নেতা। আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপির বিজয়ের সম্ভাবনা প্রবল। সেখানে সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানই এগিয়ে থাকবেন। এমন অবস্থায় তারেক রহমানের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটা যেমন দেশের মধ্যে, তেমনি দেশের বাইরের প্রভাবও রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে শুরু থেকে আন্তরিক। তবে পারিপার্শ্বিক আরও অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হচ্ছে বিএনপিকে।
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান আগামী নির্বাচনের তপশিলের আগে বা পরে দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর মধ্যে সরকারের নিরাপত্তার পাশাপাশি নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করেছে দল। ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁর দেশে ফেরার প্রস্তুতি আছে বিএনপিতে।
তারেক রহমানের স্ট্যাটাস নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ তিনি নিজেই এ বিষয়ে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছেন। এখানে আর আমার কিছু বলার নেই।’
তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তারেক রহমান দেশে কখন আসবেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হোক। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের এখন নেতা কিন্তু একজনই, সেটা হলো তারেক রহমান। এখন অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, তিনি কেন দেশে আসছেন না? আমি বলব, এটা তাঁর ওপর ছেড়ে দেন। জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে নানা ষড়যন্ত্র কাজ করছে, সেটা মাথায় রাখতে হবে। সুতরাং, যখন বুঝতে পারব যে এখন সব ঠিক আছে, তখন তাঁকে আমরা দেশে নিয়ে আসব।
দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, তারেক রহমান দেশে ফিরে কোথায় উঠবেন এবং কোথায় অফিস করবেন তাও প্রায় চূড়ান্ত। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তার বিষয় নিয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছে দলের একটি প্রতিনিধি দল। পাশাপাশি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে দুটি বুলেটপ্রুফ বাস ও গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। অনুমতিও দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে গাড়ি চলে এসেছে বলে দাবি সূত্রের।
সরকারের কোনো আপত্তি নেই
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের বিধিনিষেধ বা আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। গতকাল তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানান।
তারেক রহমানের বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়ে প্রেস সচিব ফেসবুকে লেখেন, সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধিনিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নেই। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।