বিজ্ঞাপন
ফেসবুকে শামারুহ মির্জার আবেগঘন স্ট্যাটাস
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
রাজনীতির তপ্ত ময়দানে তিনি এক আপসহীন সেনাপতি। রাজপথের লড়াইয়ে যার কণ্ঠ গর্জে ওঠে অধিকার আদায়ের দাবিতে; কিন্তু রাজনীতির সেই কঠোর বর্মের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক আবেগপ্রবণ পিতা ও দায়িত্ববান স্বামীর প্রতিচ্ছবি এবার ফুটে উঠল জনসমক্ষে।
তিনি আর কেউ নন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি তার বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বিজ্ঞানী ডা. শামারুহ মির্জার একটি ফেসবুকে দেওয়া আবেগঘন পোস্ট দুই বাংলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শামারুহ তার পোস্টে জীবনের এক চরম দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি তুলে ধরেছেন সেই দিনগুলোর কথা, যখন তার মা রাহাত আরা বেগমের শরীরে মরণব্যাধি ক্যানসার ধরা পড়ে। মায়ের জীবন বাঁচাতে যখন দ্রুত অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্বজনরা, ঠিক সেই মুহূর্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয় তার বাবাকে। গভীর রাতে ‘তৎকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর’ হাতে আটক হন মির্জা ফখরুল।
স্মৃতি হাতড়ে শামারুহ লিখেছেন- ‘আব্বুর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তার প্রথম কথাই ছিল- 'তোমার মায়ের অপারেশনটা করাও। আমরা তখন হাসপাতালে, শুধু আমরা দুই বোন আর জাহিদ চাচা। আব্বু কারাগারে।’
পোস্টটিতে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক সম্পর্কের এক অনন্য আখ্যান ফুটিয়ে তুলেছেন ডা. শামারুহ। চরম বিপদের দিনে পরিবারের বাইরের মানুষ কিভাবে ছায়ার মতো পাশে দাঁড়ায়, কৃতজ্ঞচিত্তে তিনি সেই কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে ‘জাহিদ চাচা’ এবং ‘রফিকুল চাচার’ অবদানের কথা স্মরণ করেছেন তিনি, যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তার পরিবারের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মুহূর্তেই ভাইরাল হওয়া এই পোস্টটি ছুঁয়ে গেছে হাজারও মানুষের হৃদয়।
নেটিজেনদের মন্তব্য ছিল আবেগঘন। কেউ লিখেছেন- ‘রাজনীতির মঞ্চে যাদের বজ্রকণ্ঠ শুনি, তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও যে কতটা হাহাকার ও আত্মত্যাগ লুকিয়ে থাকে, এই লেখাটি না পড়লে অজানাই থেকে যেত।’ অনেকে মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে প্রার্থনা করেছেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।