বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পেলেও ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে এখনো অনড় রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থানেই থাকার কথা জানাচ্ছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতোমধ্যে বিসিবির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) অনলাইনে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
আইসিসির যেকোনো টুর্নামেন্টের আগে আয়োজক সংস্থা ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি পরবর্তীতে টুর্নামেন্ট বা নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচে অংশ না নেয়, তবে আইসিসিকে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে হয়।
সাধারণত ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা’কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে ধরা হয়। অতীতে ভারত–পাকিস্তান সিরিজ বাতিল বা ভেন্যু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এই কারণ দেখানো হয়েছে, যা আইসিসি মেনে নিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত এর উদাহরণ।
তাই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ দল যেন বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভারতে না যায় এবং ম্যাচগুলো অন্য দেশে আয়োজন করা হয়।
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক ও উগ্র সংগঠনের হুমকির কারণে বিসিসিআই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভারতে গেলে তারা কতটা নিরাপদ থাকবে। খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ছাড়াও সাংবাদিক ও দর্শক মিলিয়ে বড় একটি বহর সেখানে থাকবে। একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এত মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে—এই প্রশ্ন তুলছে বিসিবি।
আইসিসির মধ্যস্থতায় বিসিসিআই আজকের বৈঠকে বাংলাদেশ দলকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এতেও বিসিবি রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বোর্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞার বাইরে গিয়ে তাদের কিছু করার সুযোগ নেই। নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়দের নয়, বাংলাদেশ থেকে যারা যাবেন—সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
এই অবস্থান বিসিসিআইয়ের ওপর চাপ তৈরি করেছে। আয়োজক হিসেবে সব দলের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। আইসিসির বর্তমান প্রধান ভারতীয় হওয়ায় বিষয়টি উপেক্ষা করাও সহজ নয়। ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ অন্য দেশে সরানোর প্রস্তাবে আইসিসি ইতিবাচক হতে পারে।
যদি আইসিসি বিসিবির প্রস্তাব না মানে এবং বাংলাদেশও খেলতে না যায়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ দলগুলো ওয়াকওভার পাবে। এমনকি কঠোর শাস্তির আশঙ্কাও রয়েছে। তবে বিসিবির বিশ্বাস, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না, কারণ বিষয়টি সবার কাছেই যৌক্তিক বলে তারা মনে করছে।
বিজ্ঞাপন