বিজ্ঞাপন
মোস্তাফিজ ইস্যু কী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২২ পিএম
বিজ্ঞাপন
মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে আইপিএলের ফ্রাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স। ভারতের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠন তীব্র আপত্তি জানায়। এতে বিতর্ক দ্রুতই খেলার মাঠ ছাড়িয়ে রাজনীতির অঙ্গনে পৌঁছে যায়। তবে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ইস্যু কী দুদেশের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে?
জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এর উত্তর খুঁজেছে। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইমনকল্যাণ লাহিড়ি জানান, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশ নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে ভারত।
ইমন লাহিড়ি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়ার পরে তেমনভাবে ভারত বিরোধিতা আর দেখা যাবে বলে আমার মনে হয় না। ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। একই সঙ্গে খেলার মতো বিষয়গুলিও ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’
ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনার (ইউবিটি) মতো দলগুলো হুমকি ছুড়ে বলেছে, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভারতের মাটিতে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে, কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দলগুলোর মতে, খেলাধুলা ও রাজনীতিকে এক করা অনুচিত। তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে খেলতে চায় না বাংলাদেশ।
তবে ক্রিকেট ঘিরে এই রাজনীতি প্রসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মইদুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটারদের ওপর রাজনীতির প্রভাব নতুন কোনো ঘটনা নয়। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএল-এ ডাকা বন্ধ হয়েছে সেই কবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির প্রভাব ক্রিকেটেও এসে পড়েছে। বিসিসিআই-এর সিদ্ধান্তের পিছনেও রাজনৈতিক ভাবনা কাজ করছে।’
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী মোস্তাফিজুরের অপসারণকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক আশিস লাহিড়ি। তিনি বলেন, খেলাধুলা এবং রাজনীতিকে তাত্ত্বিকভাবে আলাদা রাখা হলেও, বাস্তবে এই দুটি বিষয় প্রায়ই একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। অলিম্পিকের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় যে, বর্ণবৈষম্য বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বারবার প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। যখন দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে, তখন এই ধরনের সংঘাতমূলক পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।’
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক পবিত্র সরকারের চোখে মোস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুর্ভাগ্যজনক, ‘ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘর্ষের পরে মাঠে খেলোয়াড়দের করমর্দন না করা বা আইপিএল থেকে বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিছু মানুষ দুই দেশেই অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলেও, উভয় দেশেই সচেতন এবং সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এই বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক বা যুদ্ধের পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের জায়গা রয়েছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়।’
বিজ্ঞাপন